চট্টগ্রামে আলোচিত স্বর্ণ ছিনতাই মামলার মূল আসামিসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) ডিবি (উত্তর) বিভাগ ও পাঁচলাইশ থানা পুলিশ। অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ২৯০ ভরি স্বর্ণের বার এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল। গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জনের মধ্যে একজন সাবেক এএসআই রয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ৪ জানুয়ারি ভোরে বায়েজিদ বোস্তামীর অক্সিজেন এলাকায় ব্যবসায়ী সবুজ দেবনাথ তার দুই সহযোগীর সঙ্গে একটি সিএনজি অটোরিকশায় যাচ্ছিলেন। আতুরার ডিপো এলাকায় পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে থাকা চারজন দুষ্কৃতিকারী তাদের পথরোধ করে। ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং মারধর করে তারা ৩৫টি স্বর্ণের বার, তিনটি মোবাইল ফোন এবং নগদ টাকা ছিনিয়ে নেন।
পরবর্তীতে, ৫ জানুয়ারি পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ডিবি (উত্তর) ও পাঁচলাইশ থানা পুলিশের সমন্বিত অনুসন্ধানের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার বিকেলে গাজীপুরের কাশিমপুর থানার মাধবপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল আসামি সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেলটি একটি সুজুকি জিক্সার।
গ্রেপ্তাররা এবং তাদের পরিচয় নিম্নরূপ:
| নাম | বয়স | বিশেষ পরিচয় / মন্তব্য |
|---|---|---|
| সুমন চন্দ্র দাস | ৪২ | সাবেক এএসআই, আগেও স্বর্ণ ছিনতাইয়ে গ্রেপ্তার |
| মো. মাসুদ রানা (বাইক বাবু) | ৩০ | মামলার আসামি |
| রফিকুল ইসলাম (ইমন) | ২২ | মামলার আসামি |
| রবি কুমার দাস | ৪০ | তথ্য অনুযায়ী গ্রেপ্তার |
| পান্না রানী দাস (দীপালী) | ৩৮ | সুমনের স্ত্রী, গ্রেপ্তার |
| বিবেক বনিক | ৪২ | স্বর্ণের গোপন তথ্যদাতা, গ্রেপ্তার |
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন চন্দ্র দাস স্বীকার করেছেন যে তার নেতৃত্বে পরিকল্পিতভাবে ছিনতাইটি সংঘটিত হয়েছিল। তার তথ্য অনুযায়ী রবি কুমার দাস ও তার স্ত্রী পান্না রানী দাসকে ঢাকার মোহাম্মদপুর ও চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিবেক বনিককে কোতোয়ালী থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিএমপির ডিবি (উত্তর) হাবিবুর রহমান প্রামাণিক জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার আসামিদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে শুক্রবার সকালে ঢাকার মোহাম্মদপুরের রায়ের বাজার এলাকার একটি বাসা থেকে ২৯টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের মোট ওজন ২৯০ ভরি। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় তাদের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনা সমাধান সম্ভব হয়েছে। পুলিশ আরও জানায়, এ ধরনের দুষ্কৃতিমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে তারা কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
