চকরিয়া, কক্সবাজারে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় রবিবার দুপুরে আট বছরের শিশু খালেদ বিন ওয়ালিদ প্রাণ হারিয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয় সমাজে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। নিহত শিশু খালেদকে এমপি আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ-এর কনভয়ের একটি গাড়ি ধাক্কা দিয়েছে। দুর্ঘটনা ঘটেছে বাদরখালী ইউনিয়নের আহমেদ কবির ঘাট এলাকায়।
খালেদ স্থানীয় প্রবাসী আমান উল্লাহর একমাত্র সন্তান। সে কাছের নুরানি মাদরাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার বিকেল পাঁচটার দিকে বাদরখালী এলাকায় জনসমাগমপূর্ণ সড়ক পারাপার করার সময় এমপির কনভয়ের একটি গাড়ি শিশুটিকে চাপা দেয়। আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
স্থানীয়রা শোকে স্তম্ভিত ও ক্রুদ্ধ হয়ে কনভয় থামানোর চেষ্টা করেন। তারা একটি ডাম্প ট্রাক দিয়ে সড়ক অবরোধ করলে বেশ কয়েকটি গাড়ি সাময়িকভাবে থেমে যায়। তবে, কনভয়ের একটি গাড়ি নৌ পুলিশ আউটপোস্টের দিকে চলতে থাকে। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের হস্তক্ষেপে বাকী গাড়িগুলো চলতে দেওয়া হয়, যদিও জনতার মধ্যে উত্তেজনা ও ক্ষোভ তখনও বিরাজ করছিল।
এই দুর্ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। অনলাইন ভিডিওতে দেখা যায় খালেদের মা তার ছেলেকে জড়িয়ে ধরে বারবার অনুনয় করছেন, “ওঠো, আমার ছেলেটি… ওঠো…,” যা সারাদেশে প্রবল অনুভূতি সৃষ্টি করেছে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “শিশুটিকে এমপির কনভয়ের একটি গাড়ি চাপা দিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।” রিপোর্টের সময় এমপি আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিচের টেবিলে ঘটনার মূল তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| স্থান | আহমেদ কবির ঘাট, বাদরখালী ইউনিয়ন, চকরিয়া, কক্সবাজার |
| সময় | রবিবার, বিকেল ৫টা |
| নিহত | খালেদ বিন ওয়ালিদ, ৮ বছর বয়স |
| পারিবারিক তথ্য | পিতা: আমান উল্লাহ, স্থানীয় প্রবাসী |
| স্কুল | নুরানি মাদরাসা, দ্বিতীয় শ্রেণি |
| দুর্ঘটনা | এমপির কনভয়ের গাড়ি চাপায় মৃত্যুর ঘটনা |
| কনভয়ের সংখ্যা | ৮–১০টি গাড়ি |
| প্রশাসনিক ব্যবস্থা | গাড়ি জব্দ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে |
চকরিয়ার স্থানীয়রা এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা উঁচু পর্যায়ের কনভয়ের চলাচলের সময় জনবহুল এলাকায় সড়ক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ জোরদারের জন্য কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে শিশু ও সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
এই দুঃখজনক ঘটনায় চকরিয়া সমগ্র জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্ত করার জরুরি প্রয়োজনীয়তা浮র আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
