গৌরীপুরে প্রাচীন মাজারে তাণ্ডব: সীমানা প্রাচীর গুঁড়িয়ে অপবিত্র করার অভিযোগ

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় কয়েকশ বছরের পুরোনো ও ঐতিহাসিকভাবে পরিচিত একটি মাজারে রাতের আঁধারে বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার টেঙ্গাপাড়া গ্রামে অবস্থিত শাহজাহান উদ্দিন (র.) আউলিয়া মাজারে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে একদল দুর্বৃত্ত এই ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। মাজারের সীমানা প্রাচীর ভেঙে মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পবিত্রতা নষ্ট করতে সেখানে মল-মূত্র ও গোবর নিক্ষেপ করার মতো ঘৃণ্য অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষ ও মাজারের ভক্তদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

মাজার কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার ভোরে ভক্তরা মাজারে প্রবেশ করে স্তম্ভিত হয়ে যান। তারা দেখেন, মাজারের মূল বেদির চারপাশের দেওয়াল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, মাজারের অভ্যন্তরে পলিথিনে মোড়ানো মল-মূত্র ও গোবর ছিটিয়ে রাখা হয়েছে। এই ন্যাক্কারজনক খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের গ্রামগুলো থেকে শত শত মানুষ মাজার প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন।

নিচে শাহজাহান উদ্দিন (র.) আউলিয়া মাজারের বর্তমান পরিস্থিতি ও ঘটনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো:

মাজারে ভাঙচুর ও অপবিত্র করার বিবরণ

বিষয়ের বিবরণবিস্তারিত তথ্য ও পর্যবেক্ষণ
ঐতিহাসিক গুরুত্বমুঘল আমল থেকে প্রতিষ্ঠিত কয়েকশ বছরের পুরোনো মাজার।
হামলার ধরনসীমানা প্রাচীর সম্পূর্ণ ধ্বংস ও অবকাঠামো ভাঙচুর।
অপবিত্রকরণমাজারের ভেতরে পলিথিনভর্তি মল-মূত্র ও গোবর নিক্ষেপ।
খাদেমের প্রতিক্রিয়াদীর্ঘ ৪০ বছরের মধ্যে এমন নৃশংস ঘটনা প্রথম।
আইনি পদক্ষেপপুলিশি পরিদর্শন সম্পন্ন হলেও কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।
বর্তমান পরিস্থিতিএলাকায় পুলিশ মোতায়েন এবং স্থানীয়দের মধ্যে চাপা ক্ষোভ।

মাজারের খাদেম মো. সাইদুর রহমান (৭০) আক্ষেপ করে বলেন, “মুঘল সম্রাটদের আমলে প্রতিষ্ঠিত এই মাজারে গত ৪০ বছর ধরে আমি খেদমত করছি। কখনও দেখিনি কেউ এইভাবে আল্লাহর ওলির দরবারে আঘাত করতে পারে। যারা দেয়াল ভাঙার পাশাপাশি অপবিত্র বস্তু নিক্ষেপ করেছে, তারা মূলত এই এলাকার সাম্প্রদায়িক শান্তি নষ্ট করতে চায়।” স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক আহম্মেদের মতে, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে পরিস্থিতি ঘোলাটে হতে পারে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জুয়েল মিয়া জানান, দুর্বৃত্তদের এই ধৃষ্টতা ক্ষমার অযোগ্য। পবিত্র স্থানে এ ধরনের নোংরামি ও ভাঙচুর কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের কাজ হতে পারে না। তিনি প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভাঙচুরের চিহ্ন ও মল-মূত্র নিক্ষেপের প্রমাণ পেয়েছে। তবে তিনি বিষয়টিকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, গত এক দশক ধরে এখানে বড় কোনো ওরস হয় না, তাই বড় কোনো দুষ্কৃতকারী চক্র এই ঘটনার পেছনে থাকার সম্ভাবনা কম। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে মাজারের পবিত্রতা নষ্ট করার ঘটনায় পুলিশের এই নমনীয় মনোভাব অনেক ভক্ত ও এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তুষ্টি তৈরি করেছে।