ব্রিটেন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের দুর্নীতি: অর্থের বিনিময়ে অভিবাসীদের সহায়তার অভিযোগ

যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের অভ্যন্তরে শিকড় গেড়ে বসা এক ভয়াবহ দুর্নীতির তথ্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। ইমিগ্রেশন বিভাগের ছয়জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিবাসীদের অর্থ আত্মসাৎ, অর্থ পাচার (মানি লন্ডারিং) এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ব্রিটিশ ‘ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস’ (CPS) জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে তদন্ত চালিয়ে এই অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। এই ঘটনাটি আধুনিক ব্রিটেনের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও খোদ ইমিগ্রেশন সিস্টেমের বিশ্বাসযোগ্যতাকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

সিপিএস-এর স্পেশাল ক্রাইম ডিভিশনের প্রধান ম্যালকম ম্যাকাফি এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন যে, জনস্বার্থ এবং জাতীয় নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যক্রম শুরু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২১ সালের আগস্ট থেকে ২০২২ সালের নভেম্বর মাসের মধ্যে এই কর্মকর্তারা একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেট তৈরি করে অভিবাসীদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। এই চক্রটি মূলত লন্ডনের আশপাশের সারে ও কেন্ট এলাকা থেকে তাদের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করত।

নিচে অভিযুক্তদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় ও মামলার মূল ধারাগুলোর একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো:

ব্রিটিশ ইমিগ্রেশন দুর্নীতি মামলার একনজরে চিত্র

বিষয়বস্তুবিস্তারিত তথ্যবিশেষ মন্তব্য
অভিযুক্তের সংখ্যা০৬ জন ইমিগ্রেশন অফিসার।পাঁচজনের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থাব্রিটিশ হোম অফিস ও সিপিএস।১ বছরেরও বেশি সময় ধরে তদন্ত চলে।
মূল হোতা (ব্যাসপির বাতেরা)৩৬ বছর বয়সী সারের বাসিন্দা।জালিয়াতি ও ছদ্মবেশ ধারণের অভিযোগ।
সহকারী অভিযুক্ত (জ্যাক মিটল)৩৩ বছর বয়সী কেন্টের বাসিন্দা।সম্পত্তি গোপন ও অসদাচরণের অভিযোগ।
আদালতে হাজিরা২৯ জানুয়ারি, ওয়েস্টমিনস্টার কোর্ট।মামলার আনুষ্ঠানিক শুনানি শুরু হবে।
মূল অভিযোগের ধরনমানি লন্ডারিং ও সরকারি পদে অসদাচরণ।অভিবাসীদের অবৈধভাবে সহায়তা প্রদান।

তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রের সদস্যরা অর্থের বিনিময়ে অভিবাসীদের যুক্তরাজ্যে থাকার অনুমতি লাভে অনৈতিক সুবিধা প্রদান করতেন। সারের বাসিন্দা ব্যাসপির বাতেরার বিরুদ্ধে অভিযোগ যে, তিনি ভুয়া তথ্যের মাধ্যমে পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে এবং সরকারি পদের প্রভাব খাটিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। অন্যদিকে, কেন্টের বাসিন্দা জ্যাক মিটল অভিযুক্ত হয়েছেন অভিবাসীদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি চুরি ও গোপন করার অপরাধে। বাকি চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও মানি লন্ডারিং ও ঘুষ গ্রহণের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

এই কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসার পর ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভেতরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হোম অফিসের মতো একটি স্পর্শকাতর স্থানে কর্মকর্তাদের এমন নীতিবিবর্জিত কর্মকাণ্ড কেবল প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিও বটে। বিচার বিভাগীয় সূত্র অনুযায়ী, আগামী ২৯ জানুয়ারি লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে এই ছয়জন কর্মকর্তাকে হাজির করা হবে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁদের দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড এবং অর্জিত সকল অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।