খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই আগস্ট ২০২৫, ১২:৪২ পিএম

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার মিসর ও জর্ডান সীমান্তে প্রায় ২২,০০০ ত্রাণবাহী ট্রাক অপেক্ষা করলেও ইসরায়েল সেগুলোকে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না। অথচ অঞ্চলটিতে দুর্ভিক্ষ ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছেছে, প্রতিদিনই ক্ষুধায় মারা যাচ্ছে মানুষ।
ক্ষুধা ও মৃত্যু অব্যাহত
মানবিক সংকট: প্রতিদিনের বাস্তবতা
আলজাজিরা জানায়, জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-এর কর্মীরা নিজেরাও অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। সংস্থার এক সদস্য মানার জানান:
“আমরা প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে ঘুম থেকে উঠি। খাবার নেই, পানি নেই। বারবার বাস্তুচ্যুতি, বোমার ভয়, স্বজন হারানোর আতঙ্ক—এটাই আমাদের বাস্তবতা।”
শিশুদের অবস্থা আরও ভয়াবহ
উত্তর গাজার একটি স্কুল এখন বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্র। সেখানে সামাহ মাতার তার দুই সন্তান—৬ বছরের ইউসুফ ও ৪ বছরের আমিরকে নিয়ে অবস্থান করছেন।
মাতার বলেন: “এই শিশুদের জন্য এখন ডায়াপার বা ফর্মুলা মিলছে না। ময়দা ও চিনিও সঙ্কট। আগে ফল, দুধ, শাকসবজি ছিল—এখন কিছুই নেই।”
সীমিত ত্রাণ, চাহিদার সঙ্গে অসমঞ্জস
গত শুক্রবার ইসরায়েল মাত্র ৭৩টি ত্রাণবাহী ট্রাককে প্রবেশের অনুমতি দেয়, যা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য।
হামলা ও হতাহতের পরিসংখ্যান
| বিষয় | সংখ্যা |
| মোট নিহত (৭ অক্টোবর ২০২৩–এখন পর্যন্ত) | ৬০,৯৩৩ জন |
| মোট আহত | ১,৫০,০২৭ জন |
| সোমবার নিহত | ৯৪ জন |
| গুলিতে নিহত ত্রাণপ্রার্থী | ২৯ জন |
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিন স্বীকৃতির দাবি
গাজায় মানবিক সংকটের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ডজনখানেক ডেমোক্র্যাট সদস্য ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সেভ দ্য চিলড্রেন-এর মন্তব্য
সেভ দ্য চিলড্রেন-এর মধ্যপ্রাচ্য পরিচালক আহমাদ আলহেনদাওয়ি বলেন: “শিশুরা শুধু মৃত্যুভয়ে নয়, বেঁচে থাকলেও ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনা কঠিন হবে।”
এই মানবিক বিপর্যয় অব্যাহত থাকা অবস্থায়, বিশালসংখ্যক ত্রাণ ট্রাক গাজা সীমান্তে দাঁড়িয়ে থাকলেও ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞায় প্রবেশে বাধা তৈরি হচ্ছে—ফলে গাজার দুর্ভিক্ষ আরও গভীর হচ্ছে।
মন্তব্য