মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে আয়োজিত মিশরের শারম আল-শেখ শান্তি সম্মেলন সোমবার এক ভিন্ন আবহে রঙিন হয়ে উঠল।
মূল আলোচ্য বিষয় ছিল গাজা যুদ্ধের অবসান ও মানবিক পুনর্গঠন, কিন্তু সম্মেলনের মঞ্চে সবার নজর কাড়লেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। তাঁকে ঘিরে বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের আচরণ ও মন্তব্য এমন একটি গুরুগম্ভীর বৈঠককে এনে দেয় এক হালকা ও রসিকতাপূর্ণ পরিবেশ।
গাজা শান্তি সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি, মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি, এবং আরও ৩০টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান।
তবে সম্মেলনে উপস্থিত একমাত্র নারী নেতা ছিলেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি—এবং তাঁকেই ঘিরে ঘটে যায় কিছু রসিকতাপূর্ণ মুহূর্ত, যা এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনায়।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বহু বছর ধরেই কট্টর তামাকবিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছেন।
ইতালীয় সংবাদমাধ্যম ইল ফোগলিও-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেলোনিকে দেখেই তিনি মজা করে বলেন, “আপনাকে দারুণ লাগছে। কিন্তু আপনাকে ধূমপান ছাড়ানো পর্যন্ত আমি থামব না!”
এরদোয়ানের এই মন্তব্যে উপস্থিতদের মধ্যে হাসির রোল পড়ে যায়। পাশে বসা ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ তৎক্ষণাৎ হেসে জবাব দেন, “এটা অসম্ভব!”
মেলোনিও রসিকতা থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখেননি। হাসিমুখে তিনি বলেন, “আমি জানি, আমি জানি। তবে কাউকে খুন করতে চাই না!”
তাঁর এই উত্তরে পুরো মঞ্চ হাসিতে ফেটে পড়ে।
উল্লেখযোগ্য যে, মেলোনি সম্প্রতি ১৩ বছর পর আবার ধূমপান শুরু করেছেন। তিনি বলেছেন, এটি নাকি তাঁকে অন্য রাজনীতিকদের সঙ্গে সহজে মিশতে সাহায্য করে—“এক ধরনের কূটনৈতিক সংযোগের মাধ্যম,” বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
গাজা শান্তি উদ্যোগ নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ বিষয় ঘুরিয়ে ফেলেন ইতালির প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে।
৭৯ বছর বয়সী এই প্রেসিডেন্ট, যিনি তিনবার বিবাহিত, প্রায় ৪০ জনেরও বেশি বিশ্বনেতার সামনে বললেন, “তিনি একজন সুন্দরী যুবতী!”
এরপরই ট্রাম্প যোগ করেন, “আমার আসলে এটা বলার অনুমতি নেই। কারণ আমেরিকায় এমন কথা বললে রাজনৈতিক ক্যারিয়ারই শেষ হয়ে যায়। তবুও আমি ঝুঁকি নিচ্ছি।”
তারপর মেলোনির দিকে ফিরে হেসে বলেন, “আপনাকে সুন্দরী বললে কিছু মনে করবেন না, তাই না? কারণ, আপনি তো সত্যিই সুন্দরী!”
ক্যামেরার অ্যাঙ্গেলের কারণে মেলোনির তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া দেখা না গেলেও, ট্রাম্প পরে তাঁর রাজনৈতিক আদর্শের প্রশংসা করেন।
তিনি মেলোনিকে বলেন, “তিনি এক অবিশ্বাস্য নেতা এবং ইতালির অন্যতম সফল রাজনীতিক।”
বিশ্লেষকদের মতে, গাজা শান্তি সম্মেলনের মতো একটি তীব্র রাজনৈতিক মঞ্চে এরদোয়ান, মাখোঁ ও ট্রাম্পের এই রসিকতা পুরো আয়োজনকে এক মানবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত মাত্রা দিয়েছে।
তবে কেউ কেউ এটিকে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ বলেও সমালোচনা করেছেন, কারণ সম্মেলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল গাজা উপত্যকার যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা।
তবুও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন সবচেয়ে আলোচিত ছবি ও ভিডিও হলো সেই মুহূর্ত, যেখানে বিশ্বনেতারা গম্ভীর আলোচনার মাঝেও হাস্যরসে মাতেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে ঘিরে।
