গাজা উপত্যকায় হামাসের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে পুরো অঞ্চল দখল এবং সেখানকার বাসিন্দাদের দক্ষিণে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা। সোমবার এক সরকারি সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
সূত্র জানায়, এই পরিকল্পনায় গাজার পুরো ভূখণ্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং প্রয়োজন হলে সেখানকার জনগণকে দক্ষিণ দিকে ঠেলে দেওয়ার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। রোববার রাতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর আগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, হামাসবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করতে তারা হাজার হাজার রিজার্ভ সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সরকারি সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবের আলোকে গাজার বাসিন্দাদের জর্ডান বা মিশরে পাঠানোর বিষয়টি এগিয়ে নিচ্ছেন। নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সর্বসম্মতিক্রমে এই পরিকল্পনা অনুমোদিত হয়।
এতে হামাসকে পরাজিত করা এবং গাজায় আটক ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্ত করা মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে। পরিকল্পনায় হামাসের ওপর ‘তীব্র সামরিক আঘাত’-এর কথাও উল্লেখ রয়েছে।
ইসরাইলি সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জামির রোববার জানান, গাজায় যুদ্ধ আরও সম্প্রসারিত করতে হাজার হাজার রিজার্ভ সেনা ডাকা হচ্ছে।
গত মার্চের শুরু থেকে অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েল বিমান হামলা ও স্থল অভিযানের মাত্রা বাড়িয়েছে। এরইমধ্যে মন্ত্রিসভা সেখানে ‘প্রয়োজনে মানবিক সহায়তা বিতরণের’ অনুমোদনও দিয়েছে। তবে দাবি করা হয়েছে, গাজায় ‘যথেষ্ট খাদ্য মজুত রয়েছে’।
সরকারি সূত্র জানায়, সহায়তার ওপর হামাসের নিয়ন্ত্রণ ঠেকানো এবং তাদের শাসনব্যবস্থা ভেঙে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের অক্টোবরের হামলায় গাজা থেকে অপহৃতদের মধ্যে এখনও ৫৮ জন ইসরায়েলি নাগরিক জিম্মি রয়েছেন। ওই হামলায় ১,২১৮ জন ইসরায়েলি নিহত হন। তার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় চালানো অভিযানে গাজায় এখন পর্যন্ত ৫২,৫৩৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক মানুষ।
