গাজার রাজনৈতিক দুনিয়ায় বিরল ঘটনা, ট্রাম্প হবেন সরকার প্রধান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা উপত্যকায় সংঘর্ষ থামানোর জন্য ২০ দফার একটি প্রস্তাবনা দিয়েছেন, যা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইতোমধ্যেই অনুমোদন করেছেন। সূত্রের খবর, এর ফলে দখলদার পক্ষ গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে প্রস্তুত।

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস এখনও এই প্রস্তাবের ওপর কোনো মন্তব্য করেনি। তবে হোয়াইট হাউসের বরাত দিয়ে ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন, হামাসও শেষ পর্যন্ত এতে সম্মত হবে।

প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে, হামাস যদি সম্মতি জানায়, তাহলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সব ইসরায়েলি বন্দী , জীবিত এবং মৃত   মুক্তি পাবেন। বিনিময়ে গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।

এরপর হামাসকে গাজার ওপর থেকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহার করতে হবে। সেই ধাপ শেষে গাজায় একটি নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বা প্রশাসন গঠন করা হবে, যার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে।

সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউজে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর ট্রাম্প এই তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে গঠিত এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নাম হবে “দ্য বোর্ড অব পিস” বা “শান্তি প্রশাসন” এবং নেতৃত্ব তিনি নিজে দেবেন। ট্রাম্প বলেন, আরব ও ইসরায়েলি নেতাদের অনুরোধে তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করছেন।

এই সাময়িক সরকারের মধ্যে আরও কয়েকজন বিশ্বনেতা যুক্ত থাকবেন। এদের মধ্যে রয়েছে প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, যিনি ২০০৩ সালে ইরাকে ব্রিটিশ সৈন্যদের অভিযান নির্দেশ দেওয়ার কারণে “ইরাকের কসাই” হিসেবে পরিচিত।

নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে। এছাড়া তারা ফিলিস্তিনিদের মধ্য থেকে উপযুক্ত ব্যক্তিদের নির্বাচন করে পরবর্তীতে গাজায় একটি ফিলিস্তিনি-নেতৃত্বাধীন সরকার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেবে। পাশাপাশি গাজায় একটি সুশৃঙ্খল পুলিশ বাহিনী গঠন করে তাদের উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

এই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে গাজা ও হামাসকে সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্রীকরণ করা, যাতে ভবিষ্যতে সহিংসতা পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল