গাজায় যুদ্ধবিরতি আলোচনায় অংশ নিতে আজ কাতার যাচ্ছেন ইসরাইলি প্রতিনিধিদল

গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন দফার আলোচনার জন্য আজ (সোমবার) কাতারের রাজধানী দোহায় একটি প্রতিনিধিদল পাঠাচ্ছে ইসরাইল। হামাসের ওপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে গাজায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গাজায় যুদ্ধবিরতি আলোচনায় অংশ নিতে আজ কাতার যাচ্ছেন ইসরাইলি প্রতিনিধিদল

 

জেরুজালেম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ ১ মার্চ শেষ হওয়ার পরও উভয় পক্ষ পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধ পুনরায় শুরু করা থেকে বিরত রয়েছে। যদিও পরবর্তী ধাপের বিষয়ে, যা স্থায়ী শান্তি আনতে পারে, এখনও কোনো চুক্তি হয়নি।

যুদ্ধবিরতির সম্ভাব্য দ্বিতীয় পর্যায়ের শর্ত নিয়ে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মতপার্থক্য রয়ে গেছে। হামাস বারবার আলোচনার দ্রুত শুরু করার আহ্বান জানালেও, ইসরাইল আপাতত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষপাতী।

অচলাবস্থার মধ্যে ইসরাইল গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে এবং রোববার ঘোষণা করেছে যে তারা হামাসকে জিম্মি মুক্তিতে বাধ্য করতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখবে।

ইসরাইলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন বলেছেন, “জিম্মিদের ফিরিয়ে আনতে এবং যুদ্ধের পর হামাসকে গাজা থেকে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করতে আমাদের হাতে থাকা সব ধরনের কৌশল ব্যবহার করব।”

ইসরাইল ও গাজার মধ্যে একমাত্র বিদ্যুৎ লাইন গাজার মূল লবণাক্তমুক্তকরণ কেন্দ্রে সরবরাহ করে, যা পানি বিশুদ্ধকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ফলে গাজার সাধারণ জনগণ সৌর প্যানেল ও জ্বালানি চালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে।

গাজার লাখো মানুষ এখন তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছে, যেখানে রাতের তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে আসছে, যা তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলছে।

হামাসের শীর্ষ কর্মকর্তা ইজ্জত আল-রিশক ইসরাইলের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, “গাজাকে খাদ্য, ওষুধ এবং পানি থেকে বঞ্চিত করার পর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত আমাদের জনগণ ও প্রতিরোধ আন্দোলনের ওপর চাপ প্রয়োগের মরিয়া প্রচেষ্টা।”

হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম এএফপিকে জানান, হামাস আশা করছে মধ্যস্থতাকারীরা নিশ্চিত করবে যে ইসরাইল পূর্ববর্তী চুক্তি মেনে চলছে এবং দ্বিতীয় ধাপের আলোচনায় সম্মত শর্ত অনুসরণ করছে।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গাজার যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের রূপরেখা তুলে ধরেছিলেন, যেখানে জিম্মিদের মুক্তি এবং গাজা থেকে অবশিষ্ট ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

হামাস জানিয়েছে, তাদের প্রতিনিধিরা সপ্তাহান্তে কায়রোতে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে।

এদিকে, মার্কিন রাষ্ট্রদূত অ্যাডাম বোহলার, যিনি সম্প্রতি হামাস কর্মকর্তাদের সঙ্গে নজিরবিহীন আলোচনায় অংশ নিয়েছেন, বলেছেন, “বাকি জিম্মিদের মুক্তির বিষয়ে ‘কয়েক সপ্তাহের মধ্যে’ একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে।”

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলায় ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল। বর্তমানে ৫৮ জন এখনও গাজায় বন্দি রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩৪ জন ইসরাইলি সেনা নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।