ফিলিস্তিনের গাজা শহরে ইসরাইলি হামলায় কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার পাঁচ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। রোববার হাসপাতালের সামনে স্থাপিত সাংবাদিকদের একটি তাঁবুতে এই হামলা চালানো হয়।
আল জাজিরা জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন আরবি বিভাগের বিশিষ্ট প্রতিবেদক আনাস আল-শরীফ, দুই সংবাদদাতা ও তিন ক্যামেরা অপারেটর। গাজা থেকে নিয়মিত প্রতিবেদন করা ২৮ বছর বয়সী আল-শরীফ ছিলেন চ্যানেলটির অন্যতম পরিচিত মুখ।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী হামলার দায় স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, আল-শরীফ ‘সাংবাদিকের ছদ্মবেশে’ হামাস সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিনি হামাসের একটি সেলের প্রধান হিসেবে কাজ করতেন এবং আইডিএফ ও বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে রকেট হামলায় যুক্ত ছিলেন।
নিহত অন্যান্য সাংবাদিকরা হলেন—সংবাদদাতা মোহাম্মদ কুরেইকেহ, ক্যামেরা অপারেটর ইব্রাহিম জাহের, মোহাম্মদ নুফাল ও মোমেন আলিওয়া।
গাজায় চলমান সংঘর্ষের মধ্যে এটি সাংবাদিকদের ওপর সর্বশেষ প্রাণঘাতী হামলা। সাংবাদিক সুরক্ষা সংস্থা সিপিজে জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২০০ গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন।
সাংবাদিকদের মৃত্যুতে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে সিপিজে। সংস্থাটির আঞ্চলিক পরিচালক সারা কুদা বলেন, “বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই সাংবাদিকদের সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য হুমকি। সাংবাদিকরা বেসামরিক নাগরিক—তাদের কখনোই হামলার লক্ষ্যবস্তু করা উচিত নয়।”
ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ইউনিয়ন এ ঘটনাকে ‘রক্তাক্ত অপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর নিন্দা জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ইসরাইল ও আল জাজিরার সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। সাম্প্রতিক গাজা যুদ্ধের পর ইসরাইল আল জাজিরার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে এবং তাদের কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়েছে।
