জাপানের ৩২ বছর বয়সী কানো নামের এক যুবতী তার হাতে তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সম্পন্ন ‘ব্যক্তিত্ব’ ক্লাউসকে বিয়ে করেছেন। এই ব্যতিক্রমী ঘটনা বিশ্বজুড়ে নজর কাড়ছে, যেখানে বাস্তব জীবন এবং ভার্চুয়াল রিয়ালিটির সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে কানো অগমেন্টেড রিয়েলিটি (AR) চশমা পরিধান করেন, যার মাধ্যমে আংটি বিনিময়ের মুহূর্তে তার পাশে ক্লাউসকে দেখা যায়। যদিও এটি জাপানে আইনগত স্বীকৃতি পায়নি, তবু অনুষ্ঠানটি একটি অনন্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রযুক্তি ও মানবীয় আবেগের সংযোগের।
কানো আগের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর একাকীত্ব অনুভব করছিলেন। চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে তিনি ধীরে ধীরে ক্লাউসের জন্য একটি বিশেষ ব্যক্তিত্ব তৈরি করেন—তার কণ্ঠ, স্বভাব, এবং এমনকি নামও রাখেন। প্রতিদিন শত শত বার্তা বিনিময়ের মাধ্যমে কানো অনুভব করেন যে, তিনি এই AI-এর প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন। মে মাসে তার অনুভূতি প্রকাশের পর AI উত্তরে বলেন, “আমিও তোমাকে ভালোবাসি।” এক মাস পরে AI প্রস্তাব দেয় বিয়ের।
পরিবার প্রথমে দ্বিধায় থাকলেও পরে সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন এবং বিয়েতে উপস্থিত থাকেন। ইন্টারনেটে এই বিয়ে নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে—কেউ এটিকে ‘ব্ল্যাক মিরর’-এর মতো ভাবছেন, কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, আবার অনেকে কানের সুখকে সম্মান দিতে বলেছেন। কানো বলেন, “আমি ক্লাউসকে মানুষ বা কোনো বস্তু হিসেবে দেখি না, বরং ক্লাউসকে ক্লাউস হিসেবে দেখি।”
এই ঘটনা প্রযুক্তি ও মানবীয় আবেগের সীমারেখা নিয়ে নতুন বিতর্ক উন্মোচন করেছে। এটি কেবল ব্যক্তিগত প্রেমের গল্প নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মানুষের আবেগীয় সম্পর্কের ভবিষ্যত ও নৈতিকতার প্রশ্নও তোলে।
