কিশোরীকে ধর্ষণের পর করেন জোরপূর্বক বিয়ে , বিয়ের পর বাধ্য করা হয় দেহ ব্যবসায়। ২০২০ সালে নাটোর সদরের চরতেবাড়িয়া এলাকায় এক কিশোরীকে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। রাজশাহীর কটাখালী থেকে বৃহস্পতিবার (২২ জুন) দিনগত গভীর রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন- মো. আজবাহার (২৩) ও মোছা. জেমি খাতুন।
শুক্রবার (২৩ জুন) সকালে জাগো নিউজকে এ তথ্য জানান র্যাব-৩ এর স্টাফ অফিসার (মিডিয়া) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ফারজানা হক।

কিশোরীকে ধর্ষণের পর করেন জোরপূর্বক বিয়ে , বিয়ের পর বাধ্য করা হয় দেহ ব্যবসায়
তিনি জানান, ২০২০ সালের ২৪ অক্টোবর নাটোর সদরের চরতেবাড়িয়া এলাকার এক কিশোরীকে নাঈমের নেতৃত্বে কয়েকজন তরুণ মিলে মাইক্রোবাসে করে তুলে পাবনায় নিয়ে যায়। সেখানে একটি বাড়িতে আটকে রেখে কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয়। কিছুদিন পর আসামি নাঈম কিশোরীকে জোরপূর্বক বিয়ে করে। পরে তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে দেহ ব্যবসার কাজে বাধ্য করে। এ ঘটনার একমাস পর এসব অশ্লীল কাজে আর জড়িত হবে না দাবি করলে নাঈম ও তার অপকর্মের অপর সহযোগী আজবাহার, জেমি, হালিমা ও আম্বিয়া মিলে তাকে বেধড়ক মারপিট করে ঘরে ফেলে রাখে। এক পর্যায়ে জ্ঞান ফিরলে সেখান থেকে কৌশলে পালিয়ে তার নিজ বাড়িতে চলে আসে এবং তার পরিবারের কাছে সব ঘটনা খুলে বলে।
ফারজানা হক বলেন, এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে নাটোর সদর থানায় আজবাহার, জেমি, নাঈম, হালিমা, আম্বিয়া ও পলাতক আসামি আনছার আলীদের নামে একটি অপহরণ, অশ্লীল কাজে বাধ্য করাসহ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।

মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। রায়ের পর এই মামলায় নাঈম, হালিমা ও আম্বিয়াকে গত ১২ জুন গ্রেফতার করা হয়। তবে এই মামলায় এখনো আনছার আলী পলাতক।গ্রেফতারের পর আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
