খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই মার্চ ২০২৬, ৩:১৪ পিএম

বাংলাদেশের আধুনিক চিত্রকলার অগ্রদূত চিত্রশিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী তার অনন্য শিল্পভাষা এবং নকশাগত সৃজনশীলতার মাধ্যমে বাংলা শিল্পজগতে অমর স্থান দখল করেছেন। তিনি ছিলেন চিত্রকর, অলংকরণশিল্পী, নকশাবিদ এবং নান্দনিকতার এক স্বতন্ত্র ধারার প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর কাজের মধ্যে রঙের উচ্ছ্বাস, জ্যামিতিক বিন্যাস এবং বাংলার লোকঐতিহ্যের মিলন দেখা যায়, যা এক নতুন শিল্পভুবন তৈরি করেছে।
Table of Contents
কাইয়ুম চৌধুরীর জন্ম ১৯৩২ সালের ৯ মার্চ ফেনী জেলার এক ক্ষয়িষ্ণু জমিদার পরিবারে। অর্থনৈতিক সুবিধা সীমিত হলেও পরিবারে ছিল শিক্ষা, সংস্কৃতি ও উদার মানসিকতার পরিবেশ। এই পরিবেশে শিল্পপ্রেম ও সৃজনশীলতার বীজ রোপণ হয়। শৈশব থেকেই তিনি আঁকাআঁকির প্রতি অনুরাগী ছিলেন এবং বিভিন্ন মাধ্যমের চর্চা শুরু করেন।
কাইয়ুম চৌধুরী বহুমাত্রিক শিল্পী ছিলেন। তিনি কাজ করেছেন তেলরং, জলরং, কালি-কলম, মোমরং, রেশমছাপ ইত্যাদি মাধ্যমে। তাঁর আঁকার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো জ্যামিতিক আকার ও নকশার সৃজনশীল ব্যবহার। শক্তিশালী রেখা ও মোটাদাগের নকশা তাঁর চিত্রশৈলীকে স্বতন্ত্র করেছে।
রঙ ব্যবহারের ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে লাল, নীল ও সবুজ ব্যবহার করতেন, যা তাঁর চিত্রভাষাকে প্রাণবন্ত ও দীপ্তিময় করে। অনেকসময় তাঁর রঙের প্রয়োগ ফরাসি শিল্পী Henri Matisse-এর কাজের সঙ্গে তুলনীয় মনে হয়।
তার ক্যানভাসে প্রায়ই দেখা যায় বর্গাকার বিন্যাস ও বাংলার লোকজ উপকরণ—পুতুল, পাখা, হাঁড়ি, শীতলপাটি, কাঁথা এবং গ্রামীণ নকশা। ফলে তাঁর শিল্পকর্ম কেবল নান্দনিক নয়, বাংলার লোকঐতিহ্যের একটি জীবন্ত দলিল হিসেবেও বিবেচিত হয়।
কাইয়ুম চৌধুরীর অসামান্য অবদানের জন্য তিনি পেয়েছেন একাধিক রাষ্ট্রীয় সম্মাননা। প্রধান কয়েকটি নিচের টেবিলে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বছর | সম্মাননা | উল্লেখযোগ্য তথ্য |
|---|---|---|
| ১৯৮৬ | একুশে পদক | বাংলাদেশের চিত্রকলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি |
| ২০১০ | সুফিয়া কামাল পদক | সাহিত্য, শিল্প ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রের অবদানের জন্য |
শিল্পী ২০১৪ সালের ৩০ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু তাঁর তুলির রঙে আঁকা শিল্পভুবন আজও বেঁচে আছে। বাংলাদেশের শিল্পচর্চা, বইয়ের প্রচ্ছদ, নকশা এবং সাংস্কৃতিক নান্দনিকতার মধ্যে তিনি আজও জীবন্ত। বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির আকাশে তিনি এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞ স্মৃতিতে স্মরণীয় কাইয়ুম চৌধুরী, যিনি বাংলার চিত্রকলাকে নতুন দিগন্তে পৌঁছে দিয়েছেন।
মন্তব্য