ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদ বুধবার এক বিবৃতিতে ঘোষণা করেছে, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে তারা একটি ‘ঐতিহাসিক’ বিজয় অর্জন করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে ১০ দফা প্রস্তাবের রূপরেখা মেনে নিতে বাধ্য করা সম্ভব হয়েছে। এই প্রস্তাবের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয়েছে এবং আগামী আলোচনা ও চূড়ান্ত সমঝোতার জন্য ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
পর্ষদ জানিয়েছে, প্রস্তাবের মূল বিষয়গুলো হলো:
- ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হামলা না করার নিশ্চয়তা
- হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা
- আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
- অঞ্চলের থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার
- যুদ্ধে ক্ষতিপূরণ প্রদান
এই বিষয়গুলো নিয়ে আগামী শুক্রবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া আলোচনায় খুঁটিনাটি সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে। তবে পর্ষদ স্পষ্ট করেছে যে, এই আলোচনার অর্থ যুদ্ধের অবিলম্বে সমাপ্তি নয়।
ইউনাইটেড স্টেটসের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ‘পূর্ণাঙ্গ বিজয়’ অর্জন করেছে। ট্রাম্প বলেন, “চীন ইরানকে আলোচনায় বসতে রাজি করিয়েছে। ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বা পারমাণবিক জ্বালানি সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। আমাদের কাছে একটি ১৫ দফার রূপরেখা আছে, যার অধিকাংশ বিষয়েই ইতিমধ্যে সম্মতি পাওয়া গেছে।”
তবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়ে কিছু অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, “দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির জন্য শক্তিশালী রূপরেখা তৈরি হয়েছে। আমরা শেষ পর্যন্ত দেখব কী হয়।”
একই সময়ে ইসরায়েলের প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, “ইতিহাসে এর আগে এমন রাজনৈতিক বিপর্যয় ঘটেনি। আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার মূল বিষয়গুলো নিয়ে যখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছিল, ইসরায়েল তখন আলোচনার টেবিলের ধারে কাছেও ছিল না।”
ইয়ার লাপিদ আরও বলেছেন, “সেনাবাহিনী যেভাবে নির্দেশিত হয়েছিল, তারা তা করেছে। সাধারণ জনগণ অসামান্য সহনশীলতা দেখিয়েছে। কিন্তু নেতানিয়াহু রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। নিজের নির্ধারিত লক্ষ্যগুলোর কোনোটি অর্জন করতে পারেননি।”
মূল আলোচ্য বিষয়সমূহ (১০ দফা প্রস্তাবের সংক্ষিপ্ত বিবরণ)
| ক্রম | বিষয় | বিবরণ |
|---|---|---|
| ১ | হামলা না করার নিশ্চয়তা | উভয়পক্ষকে আগ্রাসন থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি |
| ২ | হরমুজ প্রণালি | ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা |
| ৩ | নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার | পূর্ববর্তী অর্থনৈতিক ও সামরিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া |
| ৪ | মার্কিন সেনা প্রত্যাহার | মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য প্রত্যাহার |
| ৫ | ক্ষতিপূরণ প্রদান | যুদ্ধের ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা |
| ৬ | পারমাণবিক বিষয় | ইউরেনিয়াম নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা |
| ৭ | চুক্তি কার্যক্রম | দীর্ঘমেয়াদী সমঝোতার রূপরেখা |
| ৮ | নিরাপত্তা তদারকি | আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও তদারকি ব্যবস্থা |
| ৯ | দ্বিপাক্ষিক আলোচনা | চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আলোচনার সূচনা |
| ১০ | অন্যান্য বিষয় | সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও উত্তেজনা প্রশমিত করা |
এই ঘটনায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে, যেখানে কূটনৈতিক সমঝোতা, সামরিক স্থিতিশীলতা এবং অঞ্চলের নিরাপত্তা প্রাধান্য পাচ্ছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিলতর হচ্ছে নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব নিয়ে।
