দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চলাকালে আগামী কয়েক দিন ইন্টারনেট সেবায় সাময়িক ধীরগতি দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সংযোগে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকলেও দেশের অভ্যন্তরীণ মূল অবকাঠামো সচল থাকবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেডের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কুয়াকাটায় অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ পরিচালিত হবে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী। এই সময় সিঙ্গাপুরমুখী আন্তর্জাতিক সার্কিটগুলো সাময়িকভাবে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে প্রভাবিত হতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে ৯ এপ্রিল রাত ১০টা থেকে এবং চলবে ১৩ এপ্রিল ভোর ৬টা পর্যন্ত। এই সময়সীমার মধ্যে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট গেটওয়ের একটি অংশ সাময়িকভাবে সীমিত সক্ষমতায় পরিচালিত হবে, যার ফলে ব্যবহারকারীরা ইন্টারনেট ব্যবহারে ধীরগতি, লোডিং বিলম্ব বা মাঝে মাঝে সংযোগ বিচ্ছিন্নতার মতো সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন।
তবে কক্সবাজারে অবস্থিত দেশের প্রথম সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে পরিচালিত সংযোগসমূহ স্বাভাবিকভাবে চালু থাকবে বলে জানানো হয়েছে। ফলে দেশের মোট ইন্টারনেট সেবার একটি বড় অংশ স্থিতিশীল থাকবে এবং পুরো সিস্টেম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হওয়ার কোনো ঝুঁকি নেই।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, এই ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী নিয়মিতভাবে করা হয়, যাতে কেবল নেটওয়ার্কের স্থায়িত্ব, নিরাপত্তা ও সক্ষমতা নিশ্চিত করা যায়। দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের কাজ ইন্টারনেট সেবাকে আরও নিরবচ্ছিন্ন ও দ্রুততর করতে সহায়তা করে।
রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত সারসংক্ষেপ
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| রক্ষণাবেক্ষণ কেবল | দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল |
| অবস্থান | কুয়াকাটা |
| সময় শুরু | ৯ এপ্রিল রাত ১০টা |
| সময় শেষ | ১৩ এপ্রিল ভোর ৬টা |
| প্রভাবিত সংযোগ | সিঙ্গাপুরমুখী আন্তর্জাতিক সার্কিট |
| সম্ভাব্য সমস্যা | ধীরগতি, আংশিক সংযোগ বিঘ্ন |
| সচল থাকবে | প্রথম সাবমেরিন কেবল (কক্সবাজার) |
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ ব্যবস্থার বড় অংশ নির্ভর করে একাধিক সাবমেরিন কেবলের ওপর। ফলে একটির রক্ষণাবেক্ষণ চললেও অন্যটি সচল থাকলে বড় ধরনের সেবা বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়। তবুও নির্দিষ্ট সময়ে ব্যবহারকারীদের জন্য কিছুটা ভোগান্তি তৈরি হতে পারে।
ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহারকারীদের এই সময়ে প্রয়োজনীয় অনলাইন কার্যক্রম আগে থেকেই সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংকিং, অনলাইন পরীক্ষা, ভিডিও কনফারেন্স এবং বড় ফাইল স্থানান্তরের মতো কাজে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
সার্বিকভাবে, এটি একটি পূর্বনির্ধারিত প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম হলেও সাময়িক অসুবিধা এড়াতে ব্যবহারকারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন হলে সেবার গুণগত মান আরও উন্নত হবে এবং ভবিষ্যতে ইন্টারনেট আরও স্থিতিশীলভাবে পাওয়া যাবে।
