এশিয়ার চালের বাজারে চাহিদা হ্রাস এবং নতুন মৌসুমের সরবরাহ বৃদ্ধির প্রভাবে দাম কমতে শুরু করেছে। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে থাইল্যান্ডে, যেখানে চালের দাম গত ১৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এমন নিম্নমূল্য অব্যাহত থাকলে দেশটির কৃষকেরা আগামী মৌসুমে ধান আবাদ কমিয়ে দিতে পারেন, যা ভবিষ্যতে সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে।
থাইল্যান্ডে বৃহস্পতিবার ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের দাম টনপ্রতি ৩৩৫ ডলারে নেমে আসে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৩৩৮ ডলার। ব্যবসায়ীরা জানান, ভারত তুলনামূলক অনেক কম দামে আন্তর্জাতিক বাজারে চাল সরবরাহ করায় বিদেশি ক্রেতারা এখন থাইল্যান্ড থেকে খুব অল্প পরিমাণ চাল কিনছেন। একই সঙ্গে বর্ষা মৌসুম শেষের নতুন ধান কাটা শুরু হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে, যা দাম কমার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভারতের বাজারেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। নতুন ফসল ওঠায় সরবরাহ বেড়েছে এবং দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। গত সপ্তাহে দেশটিতে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত সেদ্ধ চালের দাম টনপ্রতি ৩৪৪ থেকে ৩৫০ ডলারের মধ্যে ছিল। অপরদিকে আতপ চালের দাম টনপ্রতি ৩৫০ থেকে ৩৬০ ডলারে স্থির রয়েছে। ভারতের বিপুল উৎপাদন ও রফতানি সক্ষমতার কারণে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা আরও বেড়েছে।
ভিয়েতনামে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের দাম টনপ্রতি ৪১৫ থেকে ৪৩০ ডলারের মধ্যে থাকলেও বিক্রি তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে। দেশটির ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, চলতি বছর ভিয়েতনাম থেকে চাল রফতানি প্রায় ৮৮ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন ফসলের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে আগামী কিছু সময় এশিয়ার চালের বাজারে দাম নিম্নমুখী থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে কৃষকের উৎপাদন সিদ্ধান্ত এই বাজার পরিস্থিতিকে নতুনভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
জিলাইভ/টিএসএন
