এম এ মান্নান | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

এম এ মান্নান একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ এবং সাবেক সরকারি কর্মকর্তা যিনি ক্ষুদ্র-কুটিরশিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান ছিলেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের পরিকল্পনা মন্ত্রী ও সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য।

এম এ মান্নান | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

এম এ মান্নান | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন

এম এ মান্নান ১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৬ সালে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জের ডুংরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি গ্রামের স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে সারগোদায় অবস্থিত পাকিস্তান এয়ারফোর্স স্কুল থেকে ১৯৬২ সালে ওলেভেল সমাপ্ত করেন। মুরারিচাঁদ কলেজেও লেখাপড়া করেন তিনি। এর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

তার স্ত্রী জুলেখা মান্নান ঢাকার হলিক্রস কলেজের অধ্যাপক হিসেবে অবসর নিয়েছেন। মান্নান দম্পতির ১ পুত্র সাদাত মান্নান যুক্তরাজ্য প্রবাসী। আর কন্যা সারাহ্ মান্নান হোসাইন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী।

কর্মজীবন

এম এ মান্নান ১৯৭৪ সালে তৎকালীন সিএসপি ক্যাডারে যোগদান করেন পর্যায়ক্রমে কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে পদোন্নতি পেয়ে সরকারের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যুগ্মসচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক এবং এনজিও ব্যুারোতে মহাপরিচালক। ২০০৩ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পূর্বে ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি ইকোনমিক মিনিস্টার হিসেবে জেনেভায় অবস্থিত বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনেও দায়িত্ব পালন করেন।

 

google news
গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

রাজনৈতিক জীবন

এম. এ. মান্নান ২০০৫ সালে রাজনৈতিক জীবন শুরু করে প্রয়াত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদের মৃত্যুজনিত কারণে ২০০৫ সালের সুনামগঞ্জ-৩ আসনের উপ-নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে অংশগ্রহণ করে পরাজিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে সুনামগঞ্জ-৩ আসনে জয়ী হয়ে কয়েকটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ও সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১০ এবং ২০১৩ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সদস্যও নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফের আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে সুনামগঞ্জ-৩ আসন থেকে বিজয়ী হয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন।

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফের আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে সুনামগঞ্জ-৩ আসন থেকে বিজয়ী হয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন।

সংসদ সদস্য:

সংসদ সদস্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে পার্লামেন্ট বা জাতীয় সংসদে সরকার কিংবা বিরোধীদলীয় সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করে থাকেন। এর ইংরেজি প্রতিরূপ হচ্ছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ বা ‘এমপি’ এবং বাংলায় ‘সংসদ সদস্য’ কিংবা ‘সাংসদ’। এছাড়া, ফরাসী ভাষায় সংসদ সদস্যকে ‘ডেপুটি’ নামে অভিহিত করা হয়।

 

এম এ মান্নান | বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ

 

পরিচিতি

সংসদীয় গণতন্ত্রে একজন সংসদ সদস্য আইন-প্রণয়ন বিশেষতঃ রাষ্ট্রীয় আইন ও নাগরিক অধিকার প্রণয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাধারণ অর্থে নির্দিষ্ট সংসদ কিংবা জাতীয় সংসদের সদস্যই এমপি বা সংসদ সদস্য হিসেবে আখ্যায়িত হন।

বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দ্বি-স্তরবিশিষ্ট সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে – উচ্চ কক্ষ এবং নিম্ন কক্ষ। সেক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি হিসেবে ‘সংসদ সদস্য’ পদটি নিম্নকক্ষের জন্য প্রযোজ্য। সচরাচর জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্য পদটি উচ্চ কক্ষে ভিন্ন পদে উপস্থাপন ও চিহ্নিত করা হয়। উচ্চ কক্ষ হিসেবে সিনেটে সংসদ সদস্য তখন তিনি ‘সিনেটর’ পদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।

অবস্থান

সংসদ সদস্য হিসেবে ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে দলের সদস্যরূপে তাঁর অবস্থানকে নিশ্চিত করতে হয়। পরবর্তীতে দলীয় সভায় মনোনয়নের মাধ্যমে সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জনমতের যথার্থ সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিফলনে তিনি এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন। কখনোবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অভাবে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে থাকেন। সাধারণতঃ সংসদ সদস্য কোন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে থাকেন। দলীয়ভাবে মনোনয়নলাভে ব্যর্থ হলে কিংবা দলীয় সম্পৃক্ততা না থাকলেও ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ হিসেবে অনেকে নির্বাচিত কিংবা মনোনীত সংসদ সদস্য হন।

সংসদ সদস্যকে অনেকে ‘সাংসদ’ নামেও ডেকে থাকেন। তবে, নিত্য-নৈমিত্তিক বা প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট’ হিসেবে সংসদ সদস্যকে ‘এমপি’ শব্দের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত আকারে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানকালে প্রচারমাধ্যমে সাধারণ অর্থেই এমপি শব্দের প্রয়োগ লক্ষ্যণীয়।

আরও দেখুনঃ

Leave a Comment