,

এমবাপ্পেকে টপকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইয়ামালের অনন্য কীর্তি

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বয়সভিত্তিক রেকর্ডের তালিকায় নতুন কীর্তি গড়েছেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। নিজেদের মাঠে ফেইনুর্ডকে ৫-১ গোলে হারানোর ম্যাচে তাঁর পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া। এক গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন দুটি গোল। এই পারফরম্যান্সই তাঁকে এনে দিয়েছে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতায় টিনএজারদের মধ্যে নতুন রেকর্ড।

ফেইনুর্ডের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইয়ামালের গোল ও অ্যাসিস্টের সম্মিলিত সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩-এ। এর মধ্য দিয়ে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পেকে। এত দিন টিনএজার হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বোচ্চ ২০ গোল ও অ্যাসিস্টের রেকর্ড ছিল ফরাসি ফরোয়ার্ডের দখলে।

ইয়ামালের নতুন কীর্তির গুরুত্ব আরও বেশি, কারণ এত অল্প বয়সেই তিনি ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিয়মিত প্রভাব রাখছেন। গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের গোলের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার দক্ষতাও তাঁকে আলাদা করে তুলেছে। ফেইনুর্ডের বিপক্ষে দুই অ্যাসিস্ট তাঁর সৃজনশীলতার আরেকটি উদাহরণ হয়ে থাকল।

মাত্র কিশোর বয়সেই ইয়ামাল বার্সেলোনার মূল দলে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর খেলার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো গতি, বল নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেদ করে সুযোগ তৈরি করার ক্ষমতা। বয়সের তুলনায় বড় ম্যাচে তাঁর স্বচ্ছন্দ উপস্থিতি এরই মধ্যে তাঁকে বিশ্ব ফুটবলের আলোচিত তরুণদের একজন করে তুলেছে।

জাতীয় দলেও ইয়ামাল ইতোমধ্যে বড় মঞ্চে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। মূল প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদও পেয়েছেন। পাশাপাশি বুধবার প্রকাশিত ব্যালন ডি’অরের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নেওয়াও তাঁর দ্রুত উত্থানের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত।

ইয়ামালের সঙ্গে এমবাপ্পের তুলনাও তাই নতুন মাত্রা পেয়েছে। এমবাপ্পে কিশোর বয়সেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অসাধারণ গোল-অ্যাসিস্টের পরিসংখ্যান গড়ে নিজের নাম ইতিহাসে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। এবার সেই রেকর্ডের সীমা পেরিয়ে গেলেন ইয়ামাল। তবে দুজনের ক্যারিয়ারের পর্যায় এক নয়; এমবাপ্পে ইতোমধ্যে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ও ক্লাব ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন, আর ইয়ামাল এখনও তাঁর ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে।

বার্সেলোনার জন্যও ইয়ামালের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স বড় আশার জায়গা। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় সাফল্যের জন্য অভিজ্ঞতার পাশাপাশি এমন তরুণ প্রতিভার ওপর নির্ভরতা দলটির আক্রমণভাগকে নতুন মাত্রা দিতে পারে। বিশেষ করে বড় ম্যাচে চাপ সামলে ইয়ামালের পারফর্ম করার সক্ষমতা তাঁর ভবিষ্যৎ ভূমিকার বিষয়ে প্রত্যাশা বাড়াচ্ছে।

ফেইনুর্ডের বিপক্ষে ৫-১ গোলের জয় তাই শুধু বার্সেলোনার জন্য একটি বড় ব্যবধানের জয় নয়। ম্যাচটি ইয়ামালের ব্যক্তিগত রেকর্ডের দিক থেকেও হয়ে থাকল স্মরণীয়। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টিনএজারদের গোল ও অ্যাসিস্টের নতুন মানদণ্ড স্থাপন করে তিনি আবারও দেখালেন, ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজের ছাপ রাখার জন্য বয়স তাঁর কাছে বড় কোনো বাধা নয়।

ইয়ামালের উত্থান যে গতিতে এগোচ্ছে, তাতে তাঁর ক্যারিয়ার ভবিষ্যতে কোন উচ্চতায় পৌঁছায়, সেটিই এখন ফুটবলবিশ্বের অন্যতম আগ্রহের বিষয়।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।