,

অস্ট্রেলিয়া-ভারত সফরের জন্য শক্তিশালী দল ঘোষণা ব্রাজিলের

২০২৬ বিশ্বকাপের হতাশাজনক বিদায়ের পর নতুন করে পথচলা শুরু করতে যাচ্ছে ব্রাজিল। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে আন্তর্জাতিক বিরতিতে এশিয়া সফরে আসবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে তিনটি প্রীতি ম্যাচ সামনে রেখে মঙ্গলবার রাতে ২৬ সদস্যের শক্তিশালী দল ঘোষণা করেছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায়ের পর ব্রাজিলের সামনে এখন জাতীয় দলকে নতুনভাবে গুছিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ। আনচেলত্তির অধীনে দলটি নতুন পরিকল্পনা ও কাঠামোয় নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। সেই প্রক্রিয়ায় আসন্ন এশিয়া সফরের ম্যাচগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ না হলেও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই লড়াইগুলোতে নতুন কৌশল ও খেলোয়াড়দের সমন্বয় পরীক্ষা করার সুযোগ পাবেন কোচ।

ঘোষিত দলে ব্রাজিলের আক্রমণভাগে বড় তারকারা রয়েছেন। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনিয়ার মতো অভিজ্ঞ ও গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের পাশাপাশি তরুণদেরও জায়গা দিয়েছেন আনচেলত্তি। বিশ্বকাপে চোটের কারণে খেলতে না পারা এস্তেভাও এবং ওয়েসলিকেও দলে ফিরিয়েছেন তিনি। ফলে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে সাজানো হয়েছে স্কোয়াডটি।

তবে এবারের দল ঘোষণায় সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে গোলরক্ষক পজিশন। অভিজ্ঞ কোনো গোলরক্ষককে দলে না রাখায় এই জায়গায় তরুণদের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে ব্রাজিলকে। হুগো সুজা, পেদ্রো মরিসকো ও ওতাভিওকে রাখা হয়েছে ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে। নতুন কোচের অধীনে পুনর্গঠনের সময়ে তাঁদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

রক্ষণভাগেও বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ রয়েছেন। গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস, মার্কিনিওস ও ডগলাস সান্তোসের সঙ্গে তরুণ খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তি রক্ষণকে নতুনভাবে সাজানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্বকাপ-পরবর্তী সময়ে দলকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করে তোলার জন্য বিভিন্ন খেলোয়াড়কে পরীক্ষা করার সুযোগও পাবেন আনচেলত্তি।

মাঝমাঠে রয়েছেন ব্রুনো গুইমারেস, ডগলাস লুইজ, আন্দ্রে সান্তোসসহ একাধিক খেলোয়াড়। তাঁদের ওপর বলের নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণ গড়ে তোলা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে দ্রুত রূপান্তরের দায়িত্ব থাকবে। ফরোয়ার্ড লাইনে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনিয়ার সঙ্গে এন্ড্রিক, এস্তেভাও, জোয়াও পেদ্রো, পেদ্রো, রায়ান ও স্যামুয়েল লিনো রয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে ব্রাজিলের ২৬ সদস্যের দল

গোলরক্ষক: হুগো সুজা, পেদ্রো মরিসকো, ওতাভিও।

ডিফেন্ডার: আর্থুর দিয়াজ, ডগলাস সান্তোস, গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস, জায়ের, মার্কিনিওস, ম্যাথিউজিনহো, মাউরো জুনিয়র, ভিটর রেইস ও ওয়েসলি।

মিডফিল্ডার: আন্দ্রে সান্তোস, ব্রেনো বাইডন, ব্রুনো গুইমারেস, দানিলো সান্তোস, ডগলাস লুইজ ও গ্যাব্রিয়েল বোন্তেম্পো।

ফরোয়ার্ড: এন্ড্রিক, এস্তেভাও, জোয়াও পেদ্রো, পেদ্রো, রাফিনিয়া, রায়ান, স্যামুয়েল লিনো ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।

বিশ্বকাপের ব্যর্থতার পর ব্রাজিলের জন্য এখন সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে একটি কার্যকর দলীয় কাঠামো তৈরি করা। আনচেলত্তির মতো অভিজ্ঞ কোচের অধীনে সেই পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় তরুণদের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি দলের প্রতিষ্ঠিত তারকাদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচগুলো তাই শুধু প্রীতি ম্যাচ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এগুলো নতুন কোচের পরিকল্পনা, তরুণ খেলোয়াড়দের সক্ষমতা এবং অভিজ্ঞদের সঙ্গে তাঁদের সমন্বয় যাচাইয়ের ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে গোলরক্ষক পজিশনে তরুণদের ওপর আস্থা রাখার সিদ্ধান্তটি সফরের ম্যাচগুলোকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে।

ব্রাজিলের জন্য এশিয়া সফর হতে পারে বিশ্বকাপ-পরবর্তী পুনর্গঠনের প্রথম বড় পরীক্ষা। মাঠের ফলের পাশাপাশি নতুন খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স এবং আনচেলত্তির পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হচ্ছে, সেদিকেও থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের নজর।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।