রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি করে এনসিপি (ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা। তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি দলটির আরেক যুগ্ম সদস্য সচিব নিশ্চিত করেছেন। দল ছাড়ার পরই তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি দলীয় প্রার্থী থাকাকালে সংগৃহীত নির্বাচনী ফান্ডরেইজিংয়ের অর্থ দাতাদের ফেরত দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন।
পদত্যাগের পর এনসিপির দলীয় গ্রুপে দেওয়া এক বার্তায় তাসনিম জারা লেখেন,
“প্রিয় সহযোদ্ধাগণ, আমি দল থেকে পদত্যাগ করেছি। গত দেড় বছরে আপনাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। সেজন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আপনাদের জন্য রইলো শুভকামনা।”
পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদাবার বাসিন্দাদের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা দেন। তিনি লেখেন, খিলগাঁওয়েই তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা এবং এলাকার একজন ‘ঘরের মেয়ে’ হিসেবে মানুষের সেবা করাই ছিল তাঁর রাজনীতিতে আসার মূল লক্ষ্য। একটি রাজনৈতিক দলের প্ল্যাটফর্ম থেকে সংসদে গিয়ে জনগণের সেবা করার স্বপ্ন থাকলেও বর্তমান বাস্তবতায় তিনি কোনো নির্দিষ্ট দল বা জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তাসনিম জারা বলেন,
“আমি আপনাদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম—নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য লড়বো। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, আমি সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাই এই নির্বাচনে আমি ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দলীয় প্রার্থী না হওয়ায় স্থানীয় অফিস, সংগঠিত কর্মীবাহিনী কিংবা প্রশাসনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের সুবিধা তিনি পাবেন না। এই অবস্থায় তাঁর একমাত্র ভরসা সাধারণ মানুষ।
আইনি চ্যালেঞ্জ ও স্বাক্ষর সংগ্রহ :
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিতে আইন অনুযায়ী ঢাকা-৯ আসনের ৪,৬৯৩ জন ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক। তাসনিম জারা জানান, এই স্বাক্ষর সংগ্রহের কাজ শুরু করা হবে দ্রুতই, যা একদিনে সম্পন্ন করা অত্যন্ত কঠিন। এজন্য তিনি স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
ফান্ডরেইজিংয়ের অর্থ ফেরত :
এদিকে, এনসিপির প্রার্থী থাকাকালে যাঁরা নির্বাচনী ফান্ডরেইজিংয়ে অর্থ সহায়তা করেছিলেন, তাঁদের অর্থ ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাসনিম জারা। বিকাশের মাধ্যমে দেওয়া অনুদানের জন্য নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। যাচাই শেষে অর্থ ফেরত দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।
সংক্ষিপ্ত তথ্যচিত্র (টেবিল)
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| পদত্যাগকারী নেতা | তাসনিম জারা |
| পদ | জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব, এনসিপি |
| নির্বাচনী এলাকা | ঢাকা-৯ |
| নতুন অবস্থান | স্বতন্ত্র প্রার্থী |
| প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর | ৪,৬৯৩ জন ভোটার |
| ফান্ডরেইজিং | অনুদান ফেরতের ঘোষণা |
তাসনিম জারার এই সিদ্ধান্ত নতুন রাজনীতি ও স্বতন্ত্র প্রার্থিতার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক যাত্রা কোন পথে এগোয়, তা এখন নজর রাখছে ঢাকা-৯ আসনের ভোটারসহ সারাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
