হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, হুতি আন্দোলনের ছোড়া দুটি রকেট এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চত্বরে আঘাত হানে। এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে বিমানবন্দর এলাকায় এ ধরনের দ্বিতীয় হামলার ঘটনা ঘটল।
হুতিদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল এডেন প্রদেশের বদর শিবিরে সৌদি বাহিনীর কমান্ড সদর দপ্তর এবং একটি অস্ত্রের গুদাম। গোষ্ঠীটির দাবি, সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করেই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। তবে হামলায় নির্দিষ্ট কোন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
এএফপির এক সাংবাদিক বিমানবন্দরের কাছ থেকে দুটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। তবে বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ঠিক কোন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি। অন্যদিকে, এডেনের রাজধানী নিরাপত্তা বিভাগ এক বিবৃতিতে বিমানবন্দর চত্বরে দুটি রকেট আঘাত হানার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ইয়েমেনের তথ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল ইয়েমেনিয়া এয়ারওয়েজের একটি উড়োজাহাজ। ক্ষেপণাস্ত্র দুটি উড়োজাহাজটির কাছাকাছি এলাকায় আঘাত হানে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্র দুটি উড়োজাহাজ থেকে আনুমানিক ৫০০ মিটার দূরে এবং রানওয়ের কেন্দ্র থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে পড়েছিল। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হলেও উড়োজাহাজটির যাত্রী ও ক্রুরা নিরাপদ ছিলেন বলে জানানো হয়।
ইয়েমেনের সরকারি কর্তৃপক্ষ এ ঘটনাকে বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখছে। বিমানবন্দর কেবল সামরিক বা সরকারি কর্মকর্তাদের চলাচলের স্থান নয়; সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত ও জরুরি পরিবহনের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। ফলে এ ধরনের হামলা বিমান চলাচল ব্যাহত করার পাশাপাশি যাত্রী ও বিমানকর্মীদের জীবন বিপন্ন করতে পারে।
ইয়েমেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার এবং হুতিদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে। সৌদি আরব ইয়েমেনের স্বীকৃত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। অন্যদিকে, হুতিরা সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে। এই সংঘাতের কারণে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই অস্থিতিশীল।
বিমানবন্দর এলাকায় ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় এডেনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তবে শুক্রবারের হামলায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ ও হামলার সামগ্রিক প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।









