উল্লাপাড়ায় নির্বাচনী সহিংসতায় দুই জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় শুক্রবার ভোরে উধুনিয়া ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় উধুনিয়া ইউনিয়নের দুই জামায়াত ইসলামি নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। উল্লাপাড়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন আব্দুল আলিম সরদার (উধুনিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির) এবং আব্দুল কাদের খন্দকার (উধুনিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি)।

ঘটনাটি ঘটে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই। বৃহস্পতিবার নির্বাচনে জামায়াত ইসলামের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খান জয়লাভ করলে, তার ফলাফলের প্রেক্ষিতে ‘পূর্বশক্রতার জের’ হিসেবে হামলার অভিযোগ ওঠে। হামলাকারীরা আব্দুল লতিফের গজাইল বাজারে অবস্থিত দোকানটি ভাঙচুর করে নগদ অর্থ ও কিছু মূল্যবান জিনিস লুট করে নেয়। অগ্নিসংযোগের ঘটনা না ঘটলেও বাজারে ব্যাপক ভাঙচুরের প্রভাব দেখা দিয়েছে।

উল্লাপাড়া থানার ওসি সাকিউল আজম বলেন, “শনিবার সন্ধ্যায় উধুনিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার সকালে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছি।”

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হামলার ফলে বাজারের ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিপন্ন হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি শুরু হয়েছে।

উল্লাপাড়া উপজেলার রাজনৈতিক উত্তেজনা নির্বাচনের আগে থেকেই তীব্র ছিল। ভোট পরবর্তী দিনগুলিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহিংসতার ঘটনা নতুন নয়। তবে সরাসরি হামলার এই ঘটনা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সক্রিয় উদ্যোগ এই ধরনের সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য

বিষয়বিবরণ
আক্রান্ত ব্যক্তিআব্দুল লতিফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, উধুনিয়া ইউনিয়ন যুবদল
হামলাকারীউধুনিয়া ইউনিয়ন জামায়াত ইসলামের নেতাকর্মীরা
গ্রেপ্তারকৃতআব্দুল আলিম সরদার (আমির), আব্দুল কাদের খন্দকার (সেক্রেটারি)
স্থানগজাইল বাজার, উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ
সময়শুক্রবার ভোর, নির্বাচন পরবর্তী দিন
ঘটনা কারণসংসদ নির্বাচনের ফলাফলের কারণে পূর্বশক্রতা
পুলিশ অভিযানশনিবার সন্ধ্যায়, গ্রেপ্তার রোববার আদালতে প্রেরণ

স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ জানিয়েছে, তারা বাজার ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে এমন সহিংসতা প্রতিরোধে জোরালো পদক্ষেপ নিচ্ছে।