উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দেশটির নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজে পারমাণবিক অস্ত্র স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানায়, এক নতুন যুদ্ধজাহাজের অস্ত্র ব্যবস্থার পরীক্ষায় উপস্থিত হয়ে কিম এ নির্দেশ দেন।
সম্প্রতি পিয়ংইয়ং ৫ হাজার টন ওজনের ‘চোয়ে হিয়ন’ নামের একটি ডেস্ট্রয়ার শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ উন্মোচন করেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই জাহাজে স্বল্পপাল্লার কৌশলগত পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র সংযুক্ত থাকতে পারে।
দুই দিনব্যাপী চলা অস্ত্র পরীক্ষার প্রথম দিন কিম উপস্থিত ছিলেন। এরপর কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি দ্রুত নৌবাহিনীকে পারমাণবিকায়নের নির্দেশ দেন।
উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নতুন এই যুদ্ধজাহাজে ‘সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র’ রয়েছে এবং এটি আগামী বছর থেকে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করবে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ভূমি ও আকাশের লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম।
কেসিএনএ জানায়, মঙ্গলবার জাহাজ থেকে নিক্ষেপযোগ্য কৌশলগত নির্দেশিত অস্ত্র, স্বয়ংক্রিয় কামান এবং বৈদ্যুতিক বিঘ্নকারী বন্দুকের সফল পরীক্ষা চালানো হয়। এর আগে সোমবার পরীক্ষিত হয় শব্দের চেয়ে দ্রুতগামী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২৭ মিমি স্বয়ংক্রিয় কামান।
কিম জানান, উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা এখন শব্দের চেয়ে বেশি গতিসম্পন্ন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়েছে।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয়ে উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনী ও তাদের অস্ত্র উন্নয়নের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
এমন সময় এই ঘোষণা এলো, যখন উত্তর কোরিয়া সম্প্রতি ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পাশে সেনা পাঠানোর বিষয়টি প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে। রাশিয়াও জানায়, ইউক্রেনীয় বাহিনীর একটি ইউনিট ধ্বংসে উত্তর কোরীয় সেনাদের অবদান ছিল।
বিশ্লেষক আহ্ন চান-ইল মনে করেন, রাশিয়া থেকে পাওয়া উন্নত অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া তাদের নৌবাহিনীর শক্তি ও অভ্যন্তরীণ ঐক্য বাড়াতে চাইছে।
শনিবার ‘চোয়ে হিয়ন’ যুদ্ধজাহাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কিম জং উন ও তার মেয়ে জু আয়ের ছবি প্রকাশ করা হয়। অনেকে জু আ-কে কিমের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবেও বিবেচনা করছেন।
এর আগে মার্চ মাসে পারমাণবিক সাবমেরিন প্রকল্প পরিদর্শনে গিয়ে কিম জানান, উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষা কৌশলে নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পিয়ংইয়ং অতীতে সমুদ্রের নিচে পারমাণবিক ড্রোন তৈরি করার দাবি করলেও বিশেষজ্ঞরা তার বাস্তবতা নিয়ে সন্দিহান। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ মহড়া এবং সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে উত্তর কোরিয়ার ওপর চাপ বাড়িয়ে যাচ্ছে। উত্তর কোরিয়া বহুবার নিজেদের ‘অপরিবর্তনীয় পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র’ বলে ঘোষণা দিয়েছে এবং এই মহড়াকে ‘যুদ্ধের প্রস্তুতি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
সিউলের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ কোরিয়ান স্টাডিজের প্রেসিডেন্ট ইয়াং মু-জিন জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক এই নৌবাহিনীভিত্তিক অস্ত্র পরীক্ষা তাদের কৌশলগত সক্ষমতা বাড়ানোর প্রমাণ এবং এটি গভীর সমুদ্রেও কার্যক্রম চালানোর সক্ষমতা রাখে।
