জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই জুলাই ২০২৬, ৮:২৫ পিএম

কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে আরেকটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই বোনসহ তিনজনের প্রাণহানি হয়েছে। কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের স্কুলপাহাড় এলাকায় ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুর প্রায় দুইটার দিকে ব্যস্ত কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের স্কুলপাহাড় এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত ও আহত সবাই অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন। সংঘর্ষের পর স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা দ্রুত উদ্ধারকাজে অংশ নেন এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন উখিয়া উপজেলার হরিণমারা এলাকার বাসিন্দা জাফর আলমের দুই মেয়ে রুবিনা আক্তার ও শাহিনা আক্তার। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা যান অটোরিকশার এক পুরুষ যাত্রী। তবে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক একটি মামলায় হাজিরা দিতে সকালে দুই বোন কক্সবাজার আদালতে গিয়েছিলেন। আদালতের কার্যক্রম শেষে দুপুর দেড়টার দিকে তাঁরা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে উখিয়ার উদ্দেশে রওনা হন। পথে রামুর খুনিয়াপালং ইউনিয়নের স্কুলপাহাড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং যাত্রীরা গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার সময় অটোরিকশাটিতে চালকসহ মোট ছয়জন ছিলেন। ঘটনাস্থলেই এক যাত্রীর মৃত্যু হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা রুবিনা আক্তার ও শাহিনা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী আবদুল গফুর জানান, তিনি সন্তানদের নিয়ে কোচিং সেন্টারের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। ঠিক তখনই তাঁর সামনে ট্রাক ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার শব্দ শুনে আশপাশের মানুষ দ্রুত ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করেন এবং জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে পাঠান।
রামু হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকান্ত চক্রবর্তী তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে। নিহতদের মরদেহ আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে তদন্ত চলছে।
কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক হওয়ায় এখানে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। স্থানীয়দের মতে, অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল এ মহাসড়কে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। তাঁদের দাবি, সড়কে কঠোর নজরদারি, ট্রাফিক আইন কার্যকর প্রয়োগ এবং চালকদের আরও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
এ দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুই বোনের মৃত্যুতে উখিয়ার হরিণমারা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মহাসড়কে নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন।
মন্তব্য