ঈশ্বরদীতে নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার চরগড়গড়ি গ্রামে বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্বাচনী প্রচারণা নিয়েই দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষের দাবিক্রমে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সাতজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, অন্যরা স্থানীয় বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান ও জামায়াতের প্রার্থী আবু তালেব মন্ডলের সমর্থকদের মধ্যে কয়েক দিন ধরেই উত্তেজনা চলছিল। দুই দিন আগে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল। বিকেলে জামায়াতের প্রার্থী গণসংযোগে চরগড়গড়ি গ্রামে গেলে বিএনপি সমর্থকেরা বাধা দেয়। কিছুক্ষণের কথা–কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির পর তারা সরে যান। ফেরার পথে মৃধাপাড়া মহল্লায় সংঘর্ষ আবারো হয়।

সংঘর্ষে গুলি ছোড়া হয়, কিছু মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় এবং উভয় পক্ষের নেতা–কর্মী আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দেন। জামায়াতের দাবি, তাদের সমর্থকরা হামলার শিকার হয়েছেন এবং গুলিবিদ্ধদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বিএনপি দাবি করে, জামায়াতের নেতা ও কর্মীরা গ্রামে হানা দিয়ে স্থানীয়রা প্রতিরোধ করতে গিয়ে সংঘর্ষ হয়।

ঈশ্বরদী থানার ওসি আ স ম আবদুন নুর জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এলাকায় এখনও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। কোনো অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনা ঈশ্বরদীর নির্বাচনী এলাকার রাজনৈতিক উত্তেজনা, গ্রামীণ রাজনৈতিক আধিপত্য এবং সাধারণ মানুষকে নির্বাচনী হিংসার শিকার হওয়ার ঝুঁকি প্রতিফলিত করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় উভয় পক্ষের এই ধরনের সংঘর্ষ স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক তৎপরতার পরীক্ষা। স্থানীয়রা আতঙ্কিত, বিশেষ করে যারা প্রচারণার সময় পথচারী বা স্থানীয় ব্যবসায়ী।