আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের লক্ষ্যে সোমবার থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি শুরু করছে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। ভর্তুকিমূল্যে ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল বিক্রির এই বিশেষ কার্যক্রম চলবে টানা ১০ দিন। আগামী ২১ মে পর্যন্ত চলমান এ কর্মসূচিতে প্রতি শুক্রবার বিক্রি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। রোববার টিসিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সোমবার সকাল ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ভবনের পাশের নির্ধারিত স্থানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এই ট্রাকসেল কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাজারে নিত্যপণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সহনীয় রাখতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
টিসিবির নির্ধারিত বিক্রয় ব্যবস্থায় একজন ক্রেতা একটি ট্রাক থেকে সর্বোচ্চ দুই লিটার বোতলজাত ভোজ্যতেল, এক কেজি চিনি এবং দুই কেজি মসুর ডাল কিনতে পারবেন। এসব পণ্যের বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ভোজ্যতেল ১৩০ টাকা, প্রতি কেজি চিনি ৮০ টাকা এবং প্রতি কেজি মসুর ডাল ৭০ টাকা। সে হিসেবে একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ পরিমাণে সব পণ্য কিনলে মোট খরচ হবে ৪৮০ টাকা।
বর্তমান খুচরা বাজারমূল্যের সঙ্গে টিসিবির বিক্রয়মূল্যের উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। বাজারে প্রতি লিটার বোতলজাত ভোজ্যতেল বিক্রি হচ্ছে ১৯৯ টাকা, প্রতি কেজি চিনি ১০৫ থেকে ১১০ টাকা এবং প্রতি কেজি মসুর ডাল ১০০ থেকে ১০৫ টাকায়। সে অনুযায়ী একই পরিমাণ পণ্য সাধারণ বাজার থেকে কিনতে একজন ক্রেতার ব্যয় হয় ৭০৩ থেকে ৭১৮ টাকা। ফলে টিসিবির ট্রাক থেকে এসব পণ্য কিনলে একজন ক্রেতা ২২৩ থেকে ২৩৮ টাকা পর্যন্ত সাশ্রয়ের সুযোগ পাবেন।
নিচে টিসিবির নির্ধারিত মূল্য ও বাজারদরের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো—
| পণ্যের নাম | টিসিবির মূল্য | খুচরা বাজারমূল্য | সম্ভাব্য সাশ্রয় |
|---|---|---|---|
| বোতলজাত ভোজ্যতেল (প্রতি লিটার) | ১৩০ টাকা | ১৯৯ টাকা | ৬৯ টাকা |
| চিনি (প্রতি কেজি) | ৮০ টাকা | ১০৫–১১০ টাকা | ২৫–৩০ টাকা |
| মসুর ডাল (প্রতি কেজি) | ৭০ টাকা | ১০০–১০৫ টাকা | ৩০–৩৫ টাকা |
| মোট (নির্ধারিত পরিমাণে) | ৪৮০ টাকা | ৭০৩–৭১৮ টাকা | ২২৩–২৩৮ টাকা |
দেশব্যাপী এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে মোট ৭২০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাক মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরী ও জেলায় ৫০টি, চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলায় ২০টি, বাকি ছয়টি বিভাগীয় শহর ও জেলায় ১৫টি করে এবং অবশিষ্ট ৫৬টি জেলায় ১০টি করে ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করা হবে।
টিসিবি জানিয়েছে, প্রতিদিন প্রতিটি ট্রাক থেকে গড়ে ৪০০ জন ক্রেতা পণ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। সে হিসাবে ১০ দিনের এ বিশেষ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার উপকারভোগীর কাছে মোট ১৩ হাজার ৯৩৯ টন পণ্য পৌঁছে দেওয়া হবে।
এদিকে ট্রাকসেল কার্যক্রমের পাশাপাশি টিসিবির নিয়মিত স্মার্ট কার্ডধারী পরিবারগুলোর মধ্যেও পণ্য বিক্রি অব্যাহত থাকবে। মে মাসজুড়ে সারাদেশের প্রায় ৭২ লাখ ফ্যামিলি কার্ডধারী পরিবারের জন্য ৩৪ হাজার ৮৪৮ টন পণ্য সরবরাহ করা হবে। এর মাধ্যমে উন্মুক্ত বাজারে সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা এবং নিম্নআয়ের মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয়ে সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ অব্যাহত রাখছে সংস্থাটি।
