,

ইরান হুঁশিয়ারি: আরব দেশগুলোর জ্বালানি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের সতর্কতা

ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সম্প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি জারি করেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, যদি তাদের জ্বালানি খাতে পুনরায় হামলা চালানো হয়, তবে উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর তেল ও গ্যাস অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হবে।

আইআরজিসি প্রকাশিত বিবৃতিতে জানিয়েছে, “তোমরা ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা করে বড় ভুল করেছ। এর জবাব শুরু হয়ে গেছে। পুনরায় হামলা হলে তোমাদের এবং তোমাদের মিত্রদের জ্বালানি অবকাঠামোয় আক্রমণ থামানো হবে না, যতক্ষণ না তা পুরোপুরি ধ্বংস হয়। এবারের প্রতিশোধ আগের তুলনায় অনেক কঠোর হবে।”

এই হুঁশিয়ারি আসে ইসরায়েল সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালানোর কয়েকদিন পর। এই ঘটনার প্রভাব তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে পড়েছে; ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছায়।

আইআরজিসি বিশেষভাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুকে সতর্কবার্তার আওতায় রেখেছে। এগুলি হলো:

দেশলক্ষ্যবস্তুধরনমন্তব্য
সৌদি আরবসামরেফ রিফাইনারিতেল পরিশোধনাগারকৌশলগত গুরুত্বসম্পন্ন
সৌদি আরবজুবাইল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সরাসায়নিক ও পেট্রোকেমিক্যালবড় আকারের শিল্প অঞ্চল
সংযুক্ত আরব আমিরাতআল হোসন গ্যাসক্ষেত্রগ্যাস ক্ষেত্রদেশের প্রধান জ্বালানি উৎস
কাতারমেসাইয়িদ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সপেট্রোকেমিক্যালদেশীয় ও রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ
কাতাররাস লাফান রিফাইনারিতেল পরিশোধনাগারআন্তর্জাতিক রপ্তানিতে বড় অবদান

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি এই হামলাকে ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বহীন পদক্ষেপ’ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছেন।

সংঘাতের ধারাবাহিকতায় ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কুয়েতে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি, ইরান ইরাকে গ্যাস সরবরাহও বন্ধ করেছে। ইরাক তার মোট গ্যাস ও বিদ্যুতের এক-তৃতীয়াংশ থেকে প্রায় ৪০ শতাংশ গ্যাস ইরান থেকে পায়, যা দেশটির শক্তি খাতে বড় ধাক্কা দিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় হরমুজ প্রণালী নিয়ে মিত্র দেশগুলিকে সতর্ক করে বলেছেন, “মার্কিন মিত্রদের এখনই সক্রিয় হতে হবে এবং হরমুজ প্রণালী খুলতে সাহায্য করতে হবে।”

এই সংঘাতের শুরু থেকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের ভেতরে পাঁচ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। ফলস্বরূপ, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে, যা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

এই ঘটনাগুলি উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক তেল বাজারে স্থিতিশীলতার জন্য গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ইরান ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই সংকটের দ্রুত সমাধান খোঁজার ওপর জোর দিচ্ছেন।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।