রাজধানী ঢাকায় পৃথক অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৯২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। একই সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় ২৯টি মামলা করা হয়েছে। অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ ১১টি মোবাইল ফোনসেট এবং একজন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ডিএমপির মিডিয়া বিভাগ থেকে পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকা ও সংশ্লিষ্ট স্থানে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ডিএমপির আটটি ক্রাইম বিভাগ, গোয়েন্দা বিভাগ এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সদস্যরা অংশ নেন।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে মিরপুর ও তেজগাঁও এলাকায়। মিরপুর বিভাগ থেকে ১০৬ জন এবং তেজগাঁও বিভাগ থেকে ১০৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওয়ারী বিভাগে ৬৯ জন, মতিঝিল বিভাগে ৬১ জন এবং লালবাগ বিভাগে ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ছাড়া গুলশান বিভাগে ৪২ জন, উত্তরা বিভাগে ৩৫ জন এবং রমনা বিভাগে ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গোয়েন্দা বিভাগ দুজন এবং সিটিটিসি একজনকে গ্রেপ্তার করে। সব মিলিয়ে এই আটটি ক্রাইম বিভাগ থেকে ৪৮৯ জন এবং গোয়েন্দা ও সিটিটিসি ইউনিট থেকে আরও তিনজন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
অভিযানে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্যও উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চার কেজি গাঁজা, চার হাজার ৫৩৩টি ইয়াবা এবং ৭৫ বোতল ফেনসিডিল। পাশাপাশি ১১টি মোবাইল ফোনসেট ও একজন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী কার্যক্রম এবং বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে নিয়মিতভাবে এসব অভিযান চালানো হয়। পৃথক ঘটনায় দায়ের করা ২৯টি মামলার পরিপ্রেক্ষিতেও গ্রেপ্তার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
এক দিনের অভিযানে গ্রেপ্তারের এই সংখ্যা রাজধানীতে পুলিশের চলমান আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রমের ব্যাপ্তি তুলে ধরে। একই সঙ্গে মাদকদ্রব্য উদ্ধারের তথ্য থেকে বোঝা যায়, অভিযানের একটি বড় অংশ মাদকবিরোধী তৎপরতাকেও কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়েছে।
পুলিশের বিভাগভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মিরপুর ও তেজগাঁও—এই দুই বিভাগে একাই ২১১ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন, যা মোট গ্রেপ্তারের উল্লেখযোগ্য অংশ। অন্যদিকে ওয়ারী, মতিঝিল ও লালবাগ বিভাগেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধের ধরন ও পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পৃথকভাবে এসব অভিযান চালানো হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের মধ্যে ইয়াবার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। চার হাজার ৫৩৩টি ইয়াবার পাশাপাশি গাঁজা ও ফেনসিডিলও জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা মোবাইল ফোনসেট ও ভিকটিমের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টার অভিযানে গ্রেপ্তার ৪৯২ জন এবং দায়ের করা ২৯টি মামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চালাচ্ছে।








