ইরানে সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা, নিহত চার

ইরানের মধ্যাঞ্চলের দোরচে শহরে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ন’টার দিকে একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে চারজনের প্রাণহানি ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন দুই সেনা পাইলট এবং দুই স্থানীয় ব্যবসায়ী। দুর্ঘটনাস্থলটি শহরের একটি ব্যস্ত ফলের বাজার, যেখানে প্রভাবিত এলাকায় আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দোরচেতে ইরান সেনাবাহিনীর একটি বড় বিমানঘাঁটি অবস্থিত। দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকর্মীরা হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যস্ত ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, কারিগরি ত্রুটিই এই দুর্ঘটনার মূল কারণ।

দেশটির বিমান প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিহত দুই সেনা সদস্যের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তারা হলেন:

  • কর্নেল হামেদ সারভাজাদ (পাইলট)

  • মেজর মোজতবা কিয়ানি (কো-পাইলট)

দুর্ঘটনার সময় বাজারে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন আরও দুই বেসামরিক নাগরিক, যারা ঘটনাস্থলেই নিহত হন। হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার পর তা আগুনে আচ্ছন্ন হয়।

দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য

বিষয়বিবরণ
স্থানদোরচে, মধ্যাঞ্চল, ইরান
তারিখ ও সময়২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সকাল সাড়ে ৯টা
নিহত৪ জন (২ সেনা, ২ বেসামরিক)
পাইলট পরিচয়কর্নেল হামেদ সারভাজাদ, মেজর মোজতবা কিয়ানি
দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণকারিগরি ত্রুটি
অনুসন্ধানসেনাবাহিনী ও স্থানীয় বিচার বিভাগ, তদন্ত চলমান

স্থানীয় বিচার বিভাগের প্রধান আসাদোল্লাহ জাফারি পৃথকভাবে একটি মামলা গ্রহণ করে তদন্তকারী দল প্রেরণ করেছেন।

উল্লেখযোগ্য, এটি সাম্প্রতিককালে ইরানে সামরিক বিমান দুর্ঘটনার ধারা। মাত্র এক সপ্তাহ আগে, পশ্চিমাঞ্চলীয় হামাদান প্রদেশে একটি F-4 Phantom II যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণ চলাকালে বিধ্বস্ত হয়। সেই ঘটনায় একজন পাইলট নিহত হন, আরেকজন ইজেক্ট করে জীবিত রইলেন। প্রাথমিক তদন্তে সেখানেও কারিগরি ত্রুটিকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

দীর্ঘদিনের মার্কিন ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান তাদের সামরিক ও বেসামরিক উড়োজাহাজ বহর আধুনিকীকরণে ব্যর্থ হয়েছে। যদিও রাশিয়া থেকে কিছু যুদ্ধবিমান ও প্রশিক্ষণ বিমান কেনা হয়েছে এবং সু–৩৫ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে, তবে সেগুলো এখনও সরবরাহ করা হয়নি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এমন দুর্ঘটনা ইরানের সামরিক প্রস্তুতি ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের দিকেও ইঙ্গিত করছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র, এবং নতুন পারমাণবিক আলোচনা চলমান। সামরিক বিমান দুর্ঘটনার এই ঘটনায় নিরাপত্তা ও বিমান বাহিনী ব্যবস্থাপনার উপর নতুন প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।