উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) তীব্র হামলার হুমকি দিয়েছে। হুমকির তালিকায় রয়েছে মেটা, গুগল, অ্যাপল, বোয়িং, টেসলাসহ অন্তত ১৫টি বড় প্রযুক্তি সংস্থা। একই সঙ্গে আইআরজিসি এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মী এবং আশেপাশে বসবাসকারী সাধারণ মানুষদের নিরাপদ স্থানে অবিলম্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আলজাজিরা।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, “আমেরিকান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমরা সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তু হিসেবে শনাক্ত করেছি। তাই এখন থেকে মার্কিন এসব প্রতিষ্ঠান আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য হবে।” স্থানীয় সময় বুধবার রাত ৮টা থেকে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। হুমকিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “যদি কর্মী এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদে সরতে ব্যর্থ হন, তার দায় সম্পূর্ণ তাঁদের দায়িত্ব।”
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আরাগচি দেশটির ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধীরা প্রকাশ্যভাবে ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট।” তিনি সতর্ক করে বলেন, “ইসরায়েল যে ভুল করছে তা হলো তারা প্রতিরক্ষাহীন ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করছে। আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী আগ্রাসনকারীদের কঠোর শাস্তি দেবে।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক এ উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন কোম্পানিগুলো সাইবার হামলা, শারীরিক হামলা বা অবকাঠামোগত ক্ষতিয়ের সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে। আন্তর্জাতিকভাবে এই হুমকি নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং প্রযুক্তি অবকাঠামোর উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
নিচের সারণিতে হুমকির প্রাথমিক তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| হুমকিদাতা | ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) |
| লক্ষ্যবস্তু প্রতিষ্ঠান | মেটা, গুগল, অ্যাপল, বোয়িং, টেসলা সহ মোট ১৫টি মার্কিন কোম্পানি |
| হুমকির ধরন | শারীরিক হামলা, সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিতকরণ |
| কর্মী ও নাগরিকদের সতর্কতা | অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ |
| সময়কাল | স্থানীয় সময় বুধবার রাত ৮টা থেকে |
| পররাষ্ট্র নীতিমালা মন্তব্য | ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী: ইসরায়েলি হামলার নিন্দা ও শক্তিশালী প্রতিরোধ |
| আন্তর্জাতিক প্রভাব | বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা উদ্বেগ, মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সতর্কতা বৃদ্ধি |
উল্লেখযোগ্য, এই হুমকি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে প্রভাবিত করতে পারে। মার্কিন প্রশাসন ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করেছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সাইবার নিরাপত্তা, কর্মী সুরক্ষা ও অবকাঠামো রক্ষায় বিশেষ প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে, যেখানে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ও জনসাধারণের সুরক্ষা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে।
