ইন্দোনেশিয়ায় বিমান দুর্ঘটনায় ১০ যাত্রীর দেহ পাওয়া গেছে

ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণ সুলাওয়েসি প্রদেশে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া সকল আরোহীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে টানা সাত দিন চলা তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযানের পর আজ শুক্রবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

সূত্র জানায়, ইন্দোনেশিয়া এয়ার ট্রান্সপোর্টের বিমানটি ১৭ জানুয়ারি মাকাসারগামী যাত্রার পথে নিখোঁজ হয়। পরে দক্ষিণ সুলাওয়েসির মাউন্ট বুলুসারাউং পাহাড়ের কাছে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করা হয়। বিমানটিতে মোট ১০ জন আরোহী ছিলেন, যার মধ্যে সাতজন ক্রু এবং তিনজন যাত্রী ছিলেন। যাত্রীরা মৎস্যক্ষেত্র নজরদারি মিশনে অংশগ্রহণ করছিলেন।

যৌথ অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া ইন্দোনেশিয়ান সেনাবাহিনীর কর্নেল ডোডি ত্রিয়ো হাদি জানান, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৫৯ মিনিটে শেষ দশম ভুক্তভোগীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “ঈগল টিম এবং যৌথ সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ (এসএআর) বাহিনীর সহযোগিতায় সকল ভুক্তভোগী এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামত শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।”

উদ্ধার করা মরদেহগুলো বর্তমানে ফরেনসিক পরীক্ষা ও শনাক্তকরণের জন্য পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যে দুইজনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। বাকি মরদেহগুলোর শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার সরকার দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে। তারা পরিবারগুলোকে আশ্বস্ত করেছে যে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত অব্যাহত থাকবে এবং সকল সহায়তা প্রদান করা হবে।

নিচের টেবিলে বিমান ও আরোহীদের সংক্ষিপ্ত তথ্য সংকলন করা হলো:

তথ্যবিবরণ
বিমান অপারেটরইন্দোনেশিয়া এয়ার ট্রান্সপোর্ট
দুর্ঘটনার তারিখ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
গন্তব্যমাকাসার
ধ্বংসাবশেষের অবস্থানমাউন্ট বুলুসারাউং, দক্ষিণ সুলাওয়েসি
আরোহীর সংখ্যা১০ জন (৭ ক্রু, ৩ যাত্রী)
উদ্ধার অভিযান৭ দিন, যৌথ সার্চ ও রেসকিউ
শেষ মরদেহ উদ্ধারস্থানীয় সময় সকাল ৮:৫৯
পরিচয় নিশ্চিত২ জন

এই দুর্ঘটনা ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্যিক বিমান চলাচলে একটি গুরুত্বপূর্ণ শোকের ঘটনা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হওয়ার ফলে পরিবার ও কর্তৃপক্ষ অন্তত কিছুটা মানসিক স্বস্তি পেয়েছে। তবে, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানের কাজ এখনও চলমান রয়েছে।