ইন্টারকে ছাপিয়ে রূপকথার অধ্যায় লিখল বোডো/গ্লিমট

চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় লিখল নরওয়ের অখ্যাত ক্লাব বোডো/গ্লিমট। মঙ্গলবার রাতে মিলানে সান সিরোতে গত মৌসুমের রানার্সআপ ইন্টার মিলানকে ২-১ গোলে হারিয়ে দলটি চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে স্থান করে নিল। দুই লেগ মিলিয়ে বোডো/গ্লিমটের জয় ৫-২। এই কীর্তি শুধু ক্লাবের জন্য নয়, পুরো নরওয়েজিয়ান ফুটবল ইতিহাসের জন্যই মাইলফলক হয়ে দাঁড়াল।

বোডো/গ্লিমটের জন্য প্রতিটি ম্যাচই যেন একটি রূপকথার অধ্যায়। আর্কটিক সার্কেলের উত্তরের বোডো শহরের এই ক্লাব প্রথম লেগে ঘরের মাঠে ৩-১ গোলে জয়ী হয়ে ইতিবাচক সঙ্কেত দিয়েছে। সান সিরোতে সেই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নিল। সিরি ‘আ’-র শীর্ষস্থের ইন্টার এই ম্যাচে ইউরোপিয়ান মঞ্চে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেলেও বোডো/গ্লিমট এক মুহূর্তের জন্যও ছাড় দেয়নি।

প্রথমার্ধে কোনো গোল না হলেও দ্বিতীয়ার্ধে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। ৫২ মিনিটে ইয়েনস পেতের হাউগে বোডো/গ্লিমটকে এগিয়ে দেন। ম্যানুয়েল আকাঞ্জিরের ভুলে প্রথম শটটি ঠেকানো গেলেও ফিরতি বল থেকে হাউগে গোল করেন। ৭২ মিনিটে হাকন এভিয়েন ব্যবধান ২-০ করেন। ৭৬ মিনিটে আলেসান্দ্রো বাস্তোনি একটি গোল শোধ করলেও ইন্টার আর ফিরে আসতে পারেনি।

গত পাঁচ মৌসুমে চারবার নরওয়ের শীর্ষ লিগ এলিতেসেরিয়েন জয়ের পর এবার শিরোপা হারলেও বোডো/গ্লিমট চ্যাম্পিয়নস লিগের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ পেল। ১৯৯৭ সালে রোজেনবর্গ কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার পর এই প্রথম কোনো নরওয়েজিয়ান ক্লাব ইউরোপিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে এত দূর পৌঁছাল।

নরওয়ের লিগ শেষ হওয়া সত্ত্বেও (নভেম্বর ২০২৫) অফ-সিজনে এমন কীর্তি গড়েছে কিয়েতিল নুটসেনের দল। এ ছাড়া, ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের বাইরে প্রথম ক্লাব হিসেবে তারা শীর্ষ পাঁচ লিগের দলগুলোর বিপক্ষে চার ম্যাচ জিতেছে।

প্লে অফ ফলাফল (দুই লেগ মিলিয়ে)

দলপ্রথম লেগদ্বিতীয় লেগদুই লেগের মোটফলাফল
বোডো/গ্লিমট বনাম ইন্টার মিলান৩-১২-১৫-২বোডো/গ্লিমট জয়
নিউক্যাসল ইউনাইটেড বনাম কারাবাখ৬-১৩-২৯-৩নিউক্যাসল জয়
আতলেতিকো মাদ্রিদ বনাম ক্লাব ব্রুগ৩-৩৪-১৭-৪আতলেতিকো জয়
বায়ার লেভারকুসেন বনাম অলিম্পিয়াকোস২-০০-০২-০লেভারকুসেন জয়

ম্যাচের পর হাউগে বলেন, “আমাদের জন্য এটা অবিশ্বাস্য। আমরা জানতাম ইন্টার খুব শক্তিশালী দল।” কোচ কিয়েতিল নুটসেন যোগ করেন, “এটি আমাদের শহর, ক্লাব এবং নরওয়ের জন্য একটি বিশেষ সন্ধ্যা। আমরা লক্ষ্য নয়, উন্নতি এবং পারফরম্যান্সের দিকে মনোযোগ দিচ্ছি।”

বোডো/গ্লিমটের পরবর্তী প্রতিপক্ষ চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলো ড্র অনুযায়ী হতে পারে স্পোর্টিং লিসবন বা ম্যানচেস্টার সিটি। এই নরওয়েজিয়ান রূপকথা ইউরোপিয়ান ফুটবলের ইতিহাসে দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।