ইকুয়েডরের বন্দর শহর এসমেরালডাসে শুক্রবার ৬.৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে ৩০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এতে ৮ শতাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত এবং একটি বড় এলাকাজুড়ে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, দেশটির জরুরি প্রতিক্রিয়া সংস্থা জানিয়েছে ভূমিকম্পে ৩২ জন আহত হয়েছেন। ১৭৯টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং আরও ৭১৬টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূকম্পন রাজধানী কুইটো পর্যন্ত অনুভূত হয়।
৩৬ বছর বয়সী জেলে আন্দ্রেস মাফারে জানান, ভূমিকম্পের সময় তিনি বন্দরের দিকে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ তার চারপাশে তারগুলো কেঁপে ওঠে এবং তিনি দ্রুত পরিবারের খোঁজে বাড়ি ফেরেন। বাড়ি পৌঁছে দেখেন তার ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে।
এসমেরালডাসে এএফপি’র একজন প্রতিবেদক জানান, ভূমিকম্পের পর ধসে পড়া দেয়াল, ভেঙে যাওয়া বাড়ির সম্মুখভাগ এবং ফাটল ধরা ভবনের ছবি উঠে এসেছে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ইয়াকু পেরেজও ওই সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘ভূমিকম্পটি বেশ শক্তিশালী ছিল এবং মনে হচ্ছিল দীর্ঘ সময় ধরে কেঁপে উঠছে, যদিও বাস্তবে এটি এক মিনিটের কম স্থায়ী হয়েছিল।’
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পে চারটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ১৮টি স্কুল, দুটি রাস্তা, একটি সেতু এবং একটি সামরিক ভবনের সম্মুখভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সরকারের ধারণা, ভূমিকম্পের কারণে প্রায় ৮০ শতাংশ বাড়িতে বিদ্যুৎ এবং টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
জাতীয় তেল কোম্পানি পেট্রোইকুয়েডর জানিয়েছে, তারা এসমেরালডাস শোধনাগার এবং নিকটবর্তী একটি পাইপলাইনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। শোধনাগারটি প্রতিদিন ১ লাখ ১১ হাজার ব্যারেল তেল এবং পাইপলাইনটি ৩ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল তেল সরবরাহ করে।
পুনঃনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে মন্ত্রীদের পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় সকাল ৭টার কিছু আগে উপকূল থেকে ৩৫ কিলোমিটার গভীরতায় আঘাত হানে। তবে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এতে সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই।
