সোমবার ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের ফলে রেকর্ড তাপমাত্রা নেমেছে। দাবানলের কারণে স্পেনের ইউনেস্কো স্বীকৃত একটি ঐতিহাসিক স্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড ছুঁয়েছে। ইতালিতে এক শিশুর হিটস্ট্রোকের কারণে মৃত্যু হয়েছে।
ইতালির সার্ডিনিয়া দ্বীপে পরিবারের গাড়িতে অচেতন অবস্থায় পাওয়া চার বছর বয়সী রোমানিয়ান শিশুটি কয়েকদিন চিকিৎসার পর মারা যায়। এএফপি জানিয়েছে, শিশুটিকে আকাশপথে রোমের হাসপাতালে নেয়া হয়, কিন্তু মস্তিষ্কে অপরিবর্তনীয় ক্ষতির কারণে সোমবার তার মৃত্যু হয়।
ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বোলোনিয়া ও ফ্লোরেন্সসহ সাতটি বড় শহরের জন্য লাল সতর্কতা জারি করেছে। মঙ্গলবার ১১টি শহরে এবং বুধবার ১৬টি শহরে লাল সতর্কতা কার্যকর থাকবে। একই সঙ্গে প্রায় ১৯০ জন অগ্নিনির্বাপক ও সেনা সদস্য মাউন্ট ভিসুভিয়াসে দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। জাতীয় উদ্যানটি পর্যটকদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।
স্পেনের উত্তর-পশ্চিমের ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী একটি স্থান দাবানলের কবলে পড়েছে, যার ফলে তিনটি বলকান দেশের নাগরিকদের জরুরি সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তীব্র বাতাস ও উষ্ণ তাপমাত্রার কারণে ইউরোপের বেশ কিছু অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে।
লাস মেদুলাস এলাকায় রোমান যুগের খনির স্থান দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্পেনের দমকলকর্মীরা ব্যাপক লড়াই চালাচ্ছেন। শত শত বাসিন্দাকে সেখান থেকে সরিয়ে নিতে হয়েছে।
ক্যাস্টিল ও লিওনের আঞ্চলিক পরিবেশমন্ত্রী জুয়ান কার্লোস সুয়ারেজ-কুইনোনেস জানান, ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার বেগে বাতাস ও তীব্র তাপমাত্রার কারণে ‘অনেক অসুবিধা’ দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত লোকদের ফিরে আসতে দেব না।” প্রায় ৭০০ জন বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
দমকল কর্মীসহ চারজন সামান্য আহত হয়েছেন। লাস মেদুলাস এলাকায় রোববার আগুন লাগে, যা ঐ অঞ্চলের লাল ভূমির জন্য বিখ্যাত।
স্পেন গত এক সপ্তাহ ধরে তাপপ্রবাহের কবলে রয়েছে, যেখানে অনেক এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং দাবানল আরো বিস্তৃত হয়েছে। ক্যাস্টিল ও লিওনেই গত তিন দিনে ১৩টি দাবানল ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে কিছু আগুন ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দক্ষিণাঞ্চলের পর্যটন নগরী তারিফায় শুক্রবার নিয়ন্ত্রণে আনা আগুন পুনরায় ছড়িয়ে পড়ায় হোটেল ও সৈকত এলাকা থেকে দুই হাজারেরও বেশি মানুষ সরিয়ে নেয়া হয়েছে। সেখানে শতাধিক দমকলকর্মী আগুন নেভানোর কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।
প্রতিবেশী পর্তুগালের কেন্দ্রীয় ও উত্তরাঞ্চলে তিনটি বড় দাবানল নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য অগ্নিনির্বাপক দল লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
