সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমম্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ব্যাংক হিসাবের যাবতীয় তথ্য তলব করেছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। সোমবার দেশের সকল তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এই সংক্রান্ত একটি বিশেষ নির্দেশনা সংবলিত চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের লেনদেনসহ প্রয়োজনীয় সকল নথি বিএফআইইউ কার্যালয়ে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
Table of Contents
পটভূমি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই সরকারে ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে যে তিনজন উপদেষ্টা অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন, আসিফ মাহমুদ ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি শুরুতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তাকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের গুরুদায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর তিনি উপদেষ্টার পদ থেকে ইস্তফা দেন। বর্তমানে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র হিসেবে রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় রয়েছেন।
আসিফ মাহমুদের প্রতিক্রিয়া ও স্বচ্ছতা
ব্যাংক হিসাব তলবের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আসিফ মাহমুদ অত্যন্ত ইতিবাচক ও সাহসী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানান, তার জানামতে আরও তিন জন সাবেক উপদেষ্টার হিসাবও তলব করা হয়েছে। তিনি ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন যে, পদত্যাগের পূর্বেই তিনি তার যাবতীয় সম্পদের হিসাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিয়ে এসেছেন। তিনি আরও বলেন:
“আগামীকাল আমি নিজেই আমার ব্যাংক স্টেটমেন্ট সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেব। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আমি বদ্ধপরিকর।”
ঘোষিত সম্পদের সংক্ষিপ্ত বিবরণী
গত ১০ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের পক্ষ থেকে তাদের ব্যক্তিগত সম্পদের বিবরণী সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছিল। সেই তথ্য অনুযায়ী আসিফ মাহমুদের আর্থিক অবস্থার একটি চিত্র নিচে দেওয়া হলো:
| বিবরণ | তথ্যাদি (৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত) |
| মোট সম্পদের পরিমাণ | ১৫,৩৪,৭১৭ টাকা |
| মোট দায়ের পরিমাণ | ২৮,৬৬৯ টাকা |
| নিট সম্পদ | ১৫,০৬,০৪৮ টাকা |
| ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (TIN) | ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল না |
| আয়ের উৎস | সরকারি সম্মানী ও অন্যান্য বৈধ খাত |
প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া
সাধারণত অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় বিএফআইইউ যেকোনো ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব তলব বা স্থগিত করার ক্ষমতা রাখে। তবে আসিফ মাহমুদের ক্ষেত্রে এই তথ্য তলব নিয়মিত তদারকির অংশ নাকি সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে, তা এখনও স্পষ্ট করেনি সংস্থাটি। আসিফ মাহমুদ মনে করেন, যেভাবে বিষয়টি জনসমক্ষে আনা হয়েছে তার আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ রয়েছে। তবুও তিনি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
এই ঘটনাটি দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। একদিকে যেমন আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি উঠছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না—তা নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে আসিফ মাহমুদের নিজের ব্যাংক স্টেটমেন্ট জনসমক্ষে প্রকাশের ঘোষণাটি স্বচ্ছতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
