আসন বণ্টন: বিএনপি’র দিকে তাকিয়ে সমমনারা

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তার নাম এখন—বিএনপি–সমমনা জোটের আসন বণ্টন। বিএনপি নিজে ২৩৭টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলেও ৬৩টি আসন এখনো খালি। এই ফাঁকা আসনগুলোকেই সমমনা দলের জন্য বরাদ্দ করা হবে বলে আশা করছেন শরিকরা, কিন্তু কখন ও কীভাবে—তা নিয়ে BNP স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না দেওয়ায় জোটের ভেতর অস্বস্তি বাড়ছে।

বিভিন্ন সমমনা দলের নেতারা মানবজমিনকে জানান, তাঁরা আনুষ্ঠানিক আলোচনার অপেক্ষায় থাকলেও BNP অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগেই সীমাবদ্ধ। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না সম্প্রতি BNP স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরুর সঙ্গে ফোনে কথা বললেও তাতেও কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত মিলেনি। শরিকদের ভাষ্য, বিএনপি সেভাবে আলোচনায় বসতে চাচ্ছে না এবং নিজেদের প্রস্তুতি শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখছে।

সমস্যা আরও জটিল হচ্ছে—যেসব আসনে শরিকরা প্রার্থী হতে চান, সেসবেই BNP’র সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে মাঠে কাজ শুরু করেছেন। এতে শরিকরা মনে করছেন—তাদের প্রতি গুরুত্ব কমানো হচ্ছে কিংবা সমঝোতা শেষমেশ প্রত্যাশামতো নাও হতে পারে।

এর মধ্যে গণতন্ত্র মঞ্চ তাদের সম্ভাব্য ৪৮ প্রার্থীর তালিকাও BNP’র হাতে দিয়েছে, কিন্তু কোন আসনে তাদের সুযোগ মিলবে—তা নিয়ে BNP কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি। এমনকি মঞ্চের ৬ শীর্ষ নেতার নিজ নিজ আসন নিয়েও BNP নীরব থেকেছে।

অন্যদিকে জনপ্রিয় ও আলোচিত কয়েকজন সমমনা নেতা—জোনায়েদ সাকি, মান্না, হাসনাত কাইয়ূম, নুরুল হক নুর, রাশেদ খান, সাইফুল হকসহ অনেকেই নির্দিষ্ট আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রস্তুত। কিন্তু কিছু আসনে BNP ইতোমধ্যে নিজেদের দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করে ফেলেছে, যা জোটের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।

১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন—BNP আসন ঝুলিয়ে রাখায় তারা প্রচারের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছেন, প্রতিপক্ষরা এগিয়ে যাচ্ছে। তাঁর মতে—এভাবে চললে সমমনারা নির্বাচনে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

BNP–র অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে—ঘোষিত কয়েকটি আসন পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে, এবং চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করতে তারা প্রদেশভিত্তিক রাজনৈতিক বাস্তবতা যাচাই করছেন। তবে সময় যত যাচ্ছে, শরিকদের চাপ তত বাড়ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধীরগতি BNP–র জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
একদিকে জোটকে সন্তুষ্ট রাখতে হবে, অন্যদিকে দলীয় প্রার্থীদের ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
সঠিক ভারসাম্য রক্ষা করতে না পারলে জোট রাজনীতি দুর্বল হয়ে পড়বে—যা নির্বাচনী কৌশলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।