আবুল হাশেমের হুঁশিয়ারি: জামায়াত প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করে ভোট প্রভাবিত করতে চাইছে

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর শুক্রবার বিকেলে লালদিঘীস্থ জেলা পরিষদ চত্বরে এক সমাবেশে বলেছেন, জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর সাম্প্রতিক বক্তব্যই তাদের নির্বাচনী নীলনকশার প্রকৃত ছবি প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, জামায়াত পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন বিলম্বিত করছে এবং ভোট প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। দলটি কখনো প্রার্থী-নির্বাচিত পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করে, আবার কখনো গণভোটের দাবি উত্থাপন করে। একই সময়ে তারা ৩০০ আসনের জন্য প্রতিদিন প্রচারণা চালাচ্ছে।

আবুল হাশেম বলেন, “তাদের লক্ষ্য পরিষ্কার—ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা এবং প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়া।” তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, “শেখ হাসিনা যেমন প্রশাসন ব্যবহার করে দিনের ভোট রাতের ব্যালট বাক্সে ভরেছিলেন, জামায়াতও একই পথ অনুসরণ করতে চাচ্ছে।” তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, শাহজাহান চৌধুরী পুলিশ প্রশাসনের উপর প্রভাব বিস্তার করতে চাইছেন, এবং রাজাকারের বংশধর হিসেবে তার অতীত ইতিহাস চট্টগ্রামের মানুষ ভুলতে পারেনি।

সমাবেশে নেতাকর্মীদের সঙ্গে লালদিঘী থেকে গণসংযোগ শুরু হয়ে আন্দরকিল্লা মোড়, চেরাগি মোড় হয়ে প্রেস ক্লাব পর্যন্ত পৌঁছায়। এই সময়ে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয়। আবুল হাশেম বলেন, “জামায়াতের বিভিন্ন জায়গায় নিজেদের লোক বসানোর চেষ্টা সঠিকভাবে নজরদারি করা হচ্ছে। যারা এ ধরনের কার্যক্রমে লিপ্ত, তাদের তালিকা তৈরি হচ্ছে এবং তারা নির্বাচনের জন্য এগোতে পারবে না।”

সমাবেশে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল মান্নানসহ অন্যান্য নেতা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশের শুরুতে অসুস্থ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া ও মোনাজাতও অনুষ্ঠিত হয়। এই সমাবেশ ও গণসংযোগে দলের নির্বাচনী প্রস্তুতি, জনমত গঠন এবং ভোটারদের উৎসাহিত করার লক্ষ্য স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।