তিন সপ্তাহের অভিযানে ৩১ মাওবাদী বিদ্রোহী নিহত ভারতের

ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর চালানো তিন সপ্তাহব্যাপী অভিযানে ৩১ জন মাওবাদী বিদ্রোহী নিহত হয়েছে। গেরিলাদের দখলে থাকা কৌশলগত পাহাড়গুলো পুনর্দখলের লক্ষ্যে এই অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।

নয়াদিল্লি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, নকশালপন্থী বিদ্রোহ দমনে ভারত সরকার ‘হিমালয়ের পাদদেশের’ একটি গ্রামের নামে এই অভিযান পরিচালনা করছে। এই গ্রাম থেকেই প্রায় ছয় দশক আগে শুরু হয়েছিল মাওবাদী অনুপ্রেরণায় গেরিলা আন্দোলন।

১৯৬৭ সালে কিছু গ্রামবাসী তাদের জমিদারদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার বিদ্রোহী, সেনা সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে। ২০০০ সালের মাঝামাঝি সময়ে বিদ্রোহীরা আনুমানিক ১৫-২০ হাজার যোদ্ধা নিয়ে ভারতের এক-তৃতীয়াংশ অঞ্চলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে জানান, ছত্তিশগড় ও তেলেঙ্গানা সীমান্তের কারেগুট্টালু পাহাড়ে সর্বশেষ বন্দুকযুদ্ধ সংঘটিত হয়। তিনি বলেন, ‘নকশালবাদের বিরুদ্ধে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় অভিযানে ৩১ জন কুখ্যাত নকশাল নিহত হয়েছে।’

অমিত শাহ আরও জানান, যেসব পাহাড় এক সময় ‘লাল সন্ত্রাসে’র নিয়ন্ত্রণে ছিল, সেগুলোতে এখন গর্বের সঙ্গে ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

কারেগুট্টালুর এই পাহাড়গুলো এক সময় বিভিন্ন নকশাল সংগঠনের প্রধান আস্তানা ছিল, যেখানে বিদ্রোহীদের অস্ত্র সংগ্রহ ও সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো।

অমিত শাহ বলেন, সরকার ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে দেশ থেকে নকশালবাদ নির্মূলের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নকশাল দমনে চলমান কার্যক্রম ‘সঠিক পথে এগোচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিদ্রোহ-প্রবণ এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং স্থানীয় জনগণকে উন্নয়নের মূল স্রোতে নিয়ে আসাই সরকারের অঙ্গীকার।’

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক বছরে ভারতীয় বাহিনীর অভিযানে ৪০০-র বেশি মাওবাদী বিদ্রোহী নিহত হয়েছে। মার্চ মাসে ৩০ জন এবং ফেব্রুয়ারিতে আরও ৩১ বিদ্রোহী নিহত হয়। গত মাসে ছত্তিশগড় ও ঝাড়খণ্ডে সেনাদের অভিযানে মারা যায় আরও ১১ জন মাওবাদী।