ঢাকার কড়াইল বস্তিতে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হাজারেরও বেশি মানুষ রাত কাটিয়েছেন খোলা আকাশের নিচে। মঙ্গলবার রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর আনোয়ারুল ইসলাম নিশ্চিত করেন যে, পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
আগুন প্রথমবার নজরে আসে বিকেল ৫:৩০ মিনিটে। বউবাজার এলাকার কুমিল্লা পট্টি, বরিশাল পট্টি ও ‘ক’ ব্লকে আগুনের মাত্রা ছিল ভয়াবহ। স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্বাস আলী জানান, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে গিয়ে হাজারখানেক ঘর ধ্বংস করেছে। ফায়ার সার্ভিস ১১টি ইউনিট দিয়ে প্রথমে এবং পরে আরও ৮টি ইউনিট যুক্ত হয়ে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে।
এ সময় আশপাশের এলাকায়, বিশেষত বায়তুল আমান এলাকায় ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে ছিলেন পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। আবদুর রহিম বলেন, আগুনের আতঙ্কে পরিবারের সদস্যরা ঘর ত্যাগ করেছেন এবং ফাঁকা ঘরে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবেশ রোধে পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা আশ্রয় নিয়েছেন খামারবাড়ি (ঈদগাহ) মাঠ, এরশাদ স্কুল মাঠ ও মহাখালী টিঅ্যান্ডটি মাঠে। অল্প মালপত্র ও আসবাবপত্র সঙ্গে নিয়ে তারা খোলা আকাশের নিচে বসে আছে, রাত কাটাচ্ছেন কাঠ ও প্লাস্টিক জ্বালিয়ে মশার কামড় ও হালকা শীত থেকে বাঁচার চেষ্টা করে।
অটোরিকশাচালক রবিন শেখ জানান, আগুন তাদের ঘরের কাছাকাছি লেগে তাদের তিনটি ভাড়া করা ঘর ধ্বংস করেছে। তাঁর স্ত্রী নুরেনা বেগম যোগ করেন, আগুনের শুরু বরিশাল পট্টি থেকে এবং দ্রুত চারপাশে ছড়িয়ে পড়ার কারণে তারা খুব সামান্য মালপত্রই বের করতে পেরেছেন।
এই অগ্নিকাণ্ডে যেমন ব্যাপক ভৌত ক্ষতি হয়েছে, তেমনি মানবিকভাবে বহু পরিবার রাত কাটাতে বাধ্য হয়েছে খোলা আকাশের নিচে। নিরাপত্তা এবং ত্রাণ ব্যবস্থার প্রভাবশালী সমন্বয় ছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।
