আক্কেলপুর হাসপাতালে চিকিৎসক অনুপস্থিতিতে শিক্ষিকার আকস্মিক মৃত্যু

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা আবারও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ঘাটতি প্রকাশ করেছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেল ৩টার দিকে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে বুকে প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে আসেন নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার মিঠাপুর গ্রামের জোসনা আরা। তিনি মিঠাপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা এবং আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

জোসনা আরা নিজে জরুরি বিভাগের শয্যায় শুয়ে পড়েন। তবে দায়িত্বরত চিকিৎসক সুমাইয়া তৃষা দুপুরের খাবারের জন্য বাইরে ছিলেন। ওই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন কেবল সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) নাহিদা সুলতানা। রোগীর অবনতি লক্ষ্য করে স্যাকমো জরুরি চিকিৎসককে ফোন করেন এবং বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু শফি মাহমুদকেও জানানো হয়।

চিকিৎসক আসতে দেরি হওয়ায় প্রায় ২০ মিনিট অতিবাহিত হয় এবং জোসনা আরা চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুবরণ করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সরাসরি মৃতদেহ দেখেন।

পরিবারের প্রতিক্রিয়া

মৃত শিক্ষিকার মেয়ের জামাই হোসেন আলী অভিযোগ করেন,

“আমার শাশুড়ি বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন। তিনি স্পষ্টভাবে কথা বলছিলেন এবং নিজেই বেডে শুয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু চিকিৎসক সময়মতো না আসায় চিকিৎসা না পেয়ে তিনি মারা যান। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি চাই।”

চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক সুমাইয়া তৃষা বলেন,

“দুপুরের খাবারের জন্য আমি বাইরে ছিলাম। স্যাকমোর ফোনে দ্রুত গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় পাই। তখন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।”

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু শফি মাহমুদ জানান,

“জরুরি বিভাগে চিকিৎসক না থাকায় খবর পেয়ে আমি নিজেই রোগীর কাছে ছুটে যাই। কিন্তু গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় পাই। স্বজনদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তাদের কোনো অভিযোগ নেই। ঘটনাটি নিয়ে তথ্য বিভ্রাট ছড়ানো হচ্ছে।”

আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীন রেজা বলেন, রোগীর মৃত্যু এবং হাসপাতলে চিকিৎসক অনুপস্থিতির খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। মৃত্যুর প্রায় দুই ঘণ্টা পর স্বজনরা মরদেহ বাড়ি নিয়ে যান।

জরুরি বিভাগের বর্তমান পরিস্থিতি

ঘটনার পর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্ব ও প্রক্রিয়া আরও সুনির্দিষ্ট করার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য নিচের সারণীতে তুলে ধরা হলো:

বিষয়তথ্য
মৃতার নামজোসনা আরা
বয়স৫৮ (প্রায়)
পেশাঅবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা, মিঠাপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
হাসপাতালআক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
মৃত্যুর সময়৩১ মার্চ, বিকেল ৩টা
দায়িত্বরত চিকিৎসকসুমাইয়া তৃষা
উপস্থিত স্যাকমোনাহিদা সুলতানা
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষডা. আবু শফি মাহমুদ
পুলিশ উপস্থিতিআক্কেলপুর থানা
মৃত্যুর কারণজরুরি চিকিৎসার অভাবে হঠাৎ বুকে ব্যথা ও অসুস্থতা

এই দুঃখজনক ঘটনা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ত্রুটি, জরুরি চিকিৎসা সেবা ঘাটতি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তৎপরতার ঘাটতি স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং প্রতিক্রিয়াশীল প্রক্রিয়া প্রবর্তনের জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।