আইনজীবীরা নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানালেন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে দেশের সুপ্রিম কোর্টের ৭০৭ জন আইনজীবী যৌথভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সংবিধানবিরোধী ও অবৈধ ঘোষণা করে ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই নির্বাচন কোনো প্রকৃত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয়, বরং ক্ষমতাকে বৈধতা দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত একটি ‘নাটক’। এতে জনগণের ভোটাধিকার কার্যত শ্বাসরুদ্ধ করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রযন্ত্রকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে।

আইনজীবীরা উল্লেখ করেছেন, নিরপেক্ষ প্রশাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক সমান সুযোগ—স্বাধীন ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ন্যূনতম শর্তগুলির কোনোটিই বর্তমান প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান নয়। বিরোধী দলগুলোকে দমন করার জন্য মামলা, গ্রেপ্তার, ভয়ভীতি এবং প্রশাসনিক চাপ নিয়মিত ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে ভোটে অংশগ্রহণ মানে সংবিধান লঙ্ঘনকে বৈধতা দেওয়া।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ভোট বর্জন কোনো রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড নয়; বরং এটি সংবিধান, গণতন্ত্র এবং জনগণের সার্বভৌমত্ব রক্ষার সাংবিধানিক দায়িত্ব। আইনজীবীরা জনগণকে ‘প্রহসনমূলক নির্বাচনী আয়োজন’ প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণতন্ত্র বাঁচাতে হলে অবৈধ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ ও দৃঢ় অবস্থান নেওয়া অপরিহার্য।

তারা ভোটার তালিকা এবং ডাকযোগে ব্যালট ব্যবস্থার স্বচ্ছতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তালিকা যথাযথভাবে হালনাগাদ হয়নি; মৃত ও ভুয়া ভোটার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া প্রশাসন নিরপেক্ষ না থেকে নির্বাচনে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে কাজ করছে। আইনজীবীদের মতে, এই সব বিষয় স্বাধীন তদন্ত ছাড়া নির্বাচন এগিয়ে নেওয়াকে সংবিধান এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের মূলনীতির সঙ্গে অসমঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলছে।

বিবৃতিতে সংক্ষিপ্তভাবে ২৫ জন আইনজীবীর নাম প্রকাশ করা হয়েছে (মোট ৭০৭ জনের মধ্যে):

ক্র. নংআইনজীবীর নামক্র. নংআইনজীবীর নাম
এড. মহিদ উদ্দিন১৪এড. আনিস উদ্দিন শহীদ
এড. মোহাম্মদ আলী আজম১৫এড. আব্দুল মালেক
এড. মাসুদ হোসেন দোলন১৬এড. আবুল কালাম আজাদ
এড. সাহাবুদ্দিন রাজু১৭এড. আব্দুস সাত্তার দুলাল
এড. এস. এম. মুনীর১৮এড. মোস্তফা আবুল হোসেন
এড. এ. এম. আমিন উদ্দিন১৯এড. মহিউদ্দিন দেওয়ান
এড. ফজলুল রহমান খান২০এড. এস.এম শফিকুল ইসলাম বাবুল
এড. হোসনে আরা বেগম (বাবলী)২১এড. আনোয়ারা শাহ জাহান
এড. আনিসুর রহমান দিপু২২এড. জান্নাতুল ফেরদৌসি রূপা
১০এড. মোঃ আবুল হাসেম২৩এড. মোঃ ফোরকান মিঞা
১১এড. কাজী মোঃ শাহিন২৪এড. মাহফুজা বেগম সাঈদা
১২এড. সৈয়দ গোলাম মাসুদ বাবুল২৫এড. নাজমা আক্তার কাউছার
১৩এড. আনিসুর রহমান খান

আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পরিস্থিতিতে ভোটে অংশগ্রহণ মানে অন্যায় ও অসাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি নীরব সম্মতি স্বরূপ হবে। তারা বলছেন, সহিংসতা নয়, নীতিগত নীরবতা প্রত্যাখ্যানই জনগণকে গণতন্ত্র রক্ষায় শক্তিশালী করবে।