অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে অব্যবস্থাপনা: যাত্রী হারানোর শঙ্কা

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর পার হলেও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে অব্যবস্থাপনার অবসান ঘটেনি। বরং উড়োজাহাজে একের পর এক ত্রুটি, ফ্লাইট শিডিউল বিপর্যয়, রুট বন্ধ, এবং অনিয়মে প্রতিষ্ঠানটি জর্জরিত হয়ে পড়েছে। এসব কারণে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি যাত্রী হারানোর শঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে বিমান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সিন্ডিকেটের প্রভাব ব্যবস্থাপনা ব্যর্থতা

নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক সংস্কারের চেষ্টা করলেও অদৃশ্য সিন্ডিকেট নানা কৌশলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

  • অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা: ব্যয়বহুল সফটওয়্যার ক্রয় ও সংশ্লিষ্টতা না থাকা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি।
  • কর্মীদের অনিয়ম: চোরাচালান, নারী কর্মী নিপীড়ন, দায়িত্বহীনতা—তবুও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয় না

বহরের অবস্থা

বিমান মডেলসংখ্যা
বোয়িং 777-300 ER4
বোয়িং 787-84
বোয়িং 787-92
বোয়িং 7374
ড্যাশ 8-4005
মোট19

 

বহরের অধিকাংশ উড়োজাহাজে ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। নতুন কেনা ড্রিমলাইনারেও বারবার সমস্যা হচ্ছে। প্রকৌশল বিভাগের অবহেলার কারণে ফ্লাইট পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে এবং যাত্রী সংখ্যা কমছে।

ত্রুটির সাম্প্রতিক উদাহরণ (গত মাসে নির্বাচিত ঘটনাসমূহ)

তারিখগন্তব্যসমস্যা
8 আগস্টআবুধাবিমাঝ আকাশে তিনটি টয়লেট অকেজো, ফ্লাইট ঢাকায় ফিরে আসে
6 আগস্টব্যাংককইঞ্জিনে অস্বাভাবিক কম্পন, উড্ডয়নের এক ঘণ্টা পর ফিরে আসে
30 জুলাইশারজাহযান্ত্রিক ত্রুটি, ৬ ঘণ্টা বিলম্ব
28 জুলাইদাম্মামকেবিন প্রেশারে ত্রুটি, ঢাকায় ফিরে আসে
24 জুলাইদুবাই-চট্টগ্রামড্রিমলাইনারে যান্ত্রিক ত্রুটি
16 জুলাইদুবাইচাকায় ত্রুটি, উড়োজাহাজ ‘গ্রাউন্ডেড’
5 জুলাইব্যাংককউড্ডয়নের আগে ত্রুটি, ফ্লাইট বাতিল
1 জুলাইঢাকালাগেজ ট্রলির আঘাতে বিমান বডি ক্ষতিগ্রস্ত
3 জুলাইকক্সবাজাররানওয়েতে ত্রুটির কারণে বিমান আটকে যায়
16 মেকক্সবাজার-ঢাকাউড্ডয়নের পর চাকা খুলে পড়ে যায়

 

গত এক মাসে অন্তত ১৬টি ত্রুটি ধরা পড়েছে, যা ফ্লাইট শিডিউল লণ্ডভণ্ড করেছে

কেনাকাটায় অনিয়ম

  • কোটি টাকার এমআইএস সফটওয়্যার কেনা হয় এমন একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে, যাদের এভিয়েশন ব্যবসায় অভিজ্ঞতা নেই।
  • সেন্ট্রাল পারচেজিং কমিটির আপত্তি উপেক্ষা করে এই চুক্তি করা হয়।
  • অর্থ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক একে “আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত” বলে সতর্ক করেছিলেন

রুট সংকট লাভজনক রুট বন্ধ

  • ঢাকা–নারিতা (জাপান): বাজার যাচাইয়ের পর চালু হলেও ব্যবস্থাপনার অভাবে ১ জুলাই বন্ধ।
  • ঢাকা–রোম: অব্যবস্থাপনার কারণে যাত্রী অভিজ্ঞতা নষ্ট হচ্ছে; যাত্রীরা পচা খাবার নিয়ে পৌঁছাচ্ছেন।
  • লাভজনক রুটে উড়োজাহাজ সংকট থাকায় অন্যান্য রুট বন্ধ বা সংকুচিত হচ্ছে।

শৃঙ্খলা নৈতিকতার অভাব

  • নারী কর্মী যৌন নিপীড়নের একাধিক অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়নি; অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অনুপস্থিত।
  • ফ্লাইট ক্রুদের ধূমপানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলেও শাস্তি হয়নি

কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

বিমানের মুখপাত্র আল মাসুদ খান বলেন, সার্টিফায়েড ইঞ্জিনিয়ার যাচাইয়ের পরই উড্ডয়ন হয়, কিন্তু কিছু ছোটখাটো ত্রুটি পরে ধরা পড়ে। যাত্রী নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং সব সমস্যা আইন ও বিধি অনুযায়ী সমাধান করা হয়।