রাজধানীর মোহাম্মদপুর-বসিলা সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকদের অবরোধে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে মোহাম্মদপুর চার রাস্তার মোড়ে চালকেরা অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করলে ওই পথে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের সড়কেও। ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী মানুষ, কর্মজীবী যাত্রী এবং জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া ব্যক্তিরা।
চালকদের এই কর্মসূচির কারণে অনেক যাত্রী দীর্ঘ সময় যানবাহনে আটকে থাকেন। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে তাঁদের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হয়। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় আশপাশের এলাকায় স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ে।
আধা ঘণ্টা আটকে থেকেও এগোতে পারেননি যাত্রী
অবরোধের কারণে দুর্ভোগে পড়া এক যাত্রী জানান, তাঁর নিউমার্কেট যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বসে প্রায় আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সামনে এগোতে পারেননি তিনি। যানজটের কারণে কখন গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন, তা নিয়েও অনিশ্চয়তায় ছিলেন।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আরেক যাত্রী বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল নিয়ে সরকারের নতুন করে ভাবা উচিত। চালকেরা যখন-তখন সড়ক বন্ধ করে দিলে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে অফিসে যাওয়ার ব্যস্ত সময়ে এ ধরনের কর্মসূচির কারণে কর্মজীবী মানুষের ভোগান্তি বেড়ে যায়।
যাত্রীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে, পরিবহনসংক্রান্ত বিরোধের কারণে সড়ক অবরোধ করা হলে তার প্রভাব শুধু চালক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর সরাসরি চাপ পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। কর্মস্থলে পৌঁছানো, জরুরি কাজে অংশ নেওয়া কিংবা নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে যাওয়া—সবকিছুই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
তিন দিনের মধ্যে অটোরিকশা বন্ধের হুঁশিয়ারির প্রতিবাদ
অটোরিকশাচালকেরা জানান, তিন দিনের মধ্যে ঢাকা শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে সড়ক ও সেতুমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির প্রতিবাদে তাঁরা সড়ক অবরোধ করেছেন।
অবরোধে অংশ নেওয়া এক চালক বলেন, তাঁদের মূল দাবি হলো, যেসব সড়কে অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি রয়েছে, সেখানে যেন নির্বিঘ্নে গাড়ি চালানোর সুযোগ দেওয়া হয়। পুরো ঢাকা শহরে অটোরিকশা চালানোর দাবি তাঁদের নয় বলে জানান তিনি।
ওই চালকের ভাষ্য, সরকার যেসব সড়কে অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করেছে, তাঁরা সেসব সড়কে গাড়ি চালান না। তাঁদের দাবি, নির্ধারিত ও অনুমোদিত সড়কগুলোতে অন্তত বাধাহীনভাবে যানবাহন চালানোর সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
চালকদের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের প্রতিবাদের মূল বিষয় শহরের সব সড়কে চলাচলের অনুমতি পাওয়া নয়; বরং যেসব সড়কে চলাচলের সুযোগ রয়েছে, সেখানে সেই অনুমতি কার্যকর রাখা। প্রস্তাবিত বিধিনিষেধ নিয়ে অনিশ্চয়তা তাঁদের জীবিকা ও দৈনন্দিন কাজের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তাঁদের দাবির মধ্য দিয়ে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
পরিবহন নীতিতে সমন্বয়ের প্রয়োজন
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং নগরীর সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা—দুটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে এসব যানবাহনের সঙ্গে বহু চালকের জীবিকা জড়িত, অন্যদিকে সড়কের ধারণক্ষমতা, যানজট এবং নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
এ ক্ষেত্রে কোন সড়কে অটোরিকশা চলাচল করতে পারবে, কোথায় বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে এবং নিয়ম বাস্তবায়নের পদ্ধতি কী হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি। নিয়ম নিয়ে অস্পষ্টতা থাকলে চালক ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হতে পারে। আবার সেই বিরোধের জেরে সড়ক অবরোধ করা হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ যাত্রীরা।
মোহাম্মদপুর-বসিলা সড়কের অবরোধ তাই শুধু একটি পরিবহনসংক্রান্ত প্রতিবাদের ঘটনা নয়; এটি নগরীর যান চলাচল ব্যবস্থাপনা এবং চালকদের জীবিকার প্রশ্নও সামনে এনেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চালকদের দাবি পর্যালোচনা, অনুমোদিত সড়কে চলাচলের নিয়ম স্পষ্ট করা এবং জনদুর্ভোগ কমানোর কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
তবে অবরোধের কারণে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যাহত হওয়ায় দ্রুত সমাধানের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়েছে। পরিবহনসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থা জরুরি, যাতে চালকদের ন্যায্য দাবিগুলো বিবেচনায় আসে এবং একই সঙ্গে রাজধানীর ব্যস্ত সড়কগুলোতে সাধারণ মানুষের চলাচলও স্বাভাবিক থাকে।









