বিএনপির দুঃসময়ে নির্যাতনের শিকার হওয়া নেতাকর্মীদের পর্যায়ক্রমে চাকরি, বৈধ ডিলারশিপ ও ঠিকাদারি কাজের সুযোগ দিয়ে মূল্যায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। একই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড পেতে কাউকে ঘুষ দিতে হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে সবাই এই কার্ড পাবেন।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। বাহারচড়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বিএনপির ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের অবদান মূল্যায়নের প্রতিশ্রুতি দেন।
মীর শাহে আলম বলেন, দলের দুর্দিনে যারা পাশে ছিলেন এবং বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাঁদের পর্যায়ক্রমে মূল্যায়ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে চাকরির পাশাপাশি ডিলারশিপ, বিভিন্ন ধরনের কাজ এবং ঠিকাদারি খাতে সুযোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কথা দিচ্ছি, বিএনপির দুর্দিনের সব নেতাকর্মীর মূল্যায়ন হবে ইনশাআল্লাহ। আপনারা চাকরি পাবেন, আপনারা বৈধভাবে ডিলারশিপ পাবেন, বৈধভাবে কাজের সুযোগ পাবেন, বৈধভাবে ঠিকাদারি পাবেন, আইন-নিয়মের মধ্য থেকে দলের যারা নির্যাতিত নেতাকর্মী পর্যায়ক্রমে সবারই মূল্যায়ন হবে।’
তাঁর বক্তব্যে দলের প্রতি দীর্ঘদিনের আনুগত্য ও প্রতিকূল সময়ে ভূমিকা রাখা নেতাকর্মীদের স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে কোন ধরনের চাকরি দেওয়া হবে, ডিলারশিপের ক্ষেত্রগুলো কী হবে কিংবা ঠিকাদারি কাজ পাওয়ার প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
প্রতিমন্ত্রী আইন ও বিধিবিধান মেনে এসব সুযোগ দেওয়ার কথা বলেছেন। ফলে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিয়ম, যোগ্যতা ও প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হবে। প্রতিশ্রুতিগুলো কার্যকর করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনার কথাও অনুষ্ঠানে জানানো হয়নি।
ফ্যামিলি কার্ড পেতে ঘুষের প্রয়োজন নেই
অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ নিয়েও কথা বলেন মীর শাহে আলম। তিনি জানান, এই কার্ড পাওয়ার জন্য কাউকে ঘুষ বা অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। পর্যায়ক্রমে সবাই কার্ড পাবেন বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আরও পরিষ্কার করি। ফ্যামিলি কার্ডের জন্য কাউকে ঘুষটুস দেওয়ার দরকার নাই। এই কার্ড সবাই পাবেন পর্যায়ক্রমে।’
সামাজিক সহায়তা কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে ঘুষমুক্ত প্রক্রিয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তবে কারা এই কার্ড পাওয়ার যোগ্য হবেন, আবেদন ও যাচাই কীভাবে সম্পন্ন হবে এবং বিতরণ কার্যক্রমের সময়সূচি কী—এসব বিষয়ে অনুষ্ঠানে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যাঁরা
বাহারচড়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহাবুবের রহমান শামীম এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ জকরিয়াসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে চেক বিতরণের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে কর্মসংস্থান, ব্যবসার সুযোগ এবং সামাজিক সহায়তা নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য উঠে আসে। তাঁর ঘোষণায় দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন এবং ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হলেও এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি ও সময়সীমা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি।









