কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে আজ এক অভাবনীয় পরিস্থিতির সাক্ষী হলো ক্রিকেট বিশ্ব। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ২৩ রানের ব্যবধানে হেরে এখন টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের কাছে হারের তেতো স্মৃতি থাকলেও সেবার অস্ট্রেলিয়া ঘুরে দাঁড়িয়ে সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিল। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। চোটের জর্জরিত দল এবং পয়েন্ট তালিকার কঠিন সমীকরণ অজিদের সামনে এক বিশাল পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে।
পরাজয়ের ব্যবধান ও সমীকরণ
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই হারের ফলে ‘বি’ গ্রুপে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান এখন তিন নম্বরে। শীর্ষ দুইয়ে থেকে সুপার এইটে যাওয়ার স্বপ্ন এখন সুতোয় ঝুলছে। গ্রুপের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে তাদের প্রথম দুই ম্যাচেই জয় তুলে নিয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে। অস্ট্রেলিয়ার হাতে আছে আর মাত্র দুটি ম্যাচ—শ্রীলঙ্কা ও ওমানের বিপক্ষে। এই দুটি ম্যাচে জিতলেও অজিদের পয়েন্ট হবে ৬, যা শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়েরও হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে নিট রান রেটের (NRR) মারপ্যাঁচে কপাল পুড়তে পারে ২০২১ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
নিচে ‘বি’ গ্রুপের বর্তমান পয়েন্ট তালিকার চিত্র দেওয়া হলো:
| অবস্থান | দল | ম্যাচ | জয় | হার | পয়েন্ট | নেট রান রেট |
| ১ | শ্রীলঙ্কা | ২ | ২ | ০ | ৪ | +৩.১২৫ |
| ২ | জিম্বাবুয়ে | ২ | ২ | ০ | ৪ | +১.৯৮৪ |
| ৩ | অস্ট্রেলিয়া | ২ | ১ | ১ | ২ | +১.১০০ |
| ৪ | আয়ারল্যান্ড | ২ | ০ | ২ | ০ | -২.১৭৫ |
| ৫ | ওমান | ২ | ০ | ২ | ০ | -৪.৩০৬ |
চোটের মিছিলে বিধ্বস্ত অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়ার এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে একের পর এক চোট। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই দলের মূল দুই পেস অস্ত্র প্যাট কামিন্স ও জস হ্যাজলউড ছিটকে যাওয়ায় বোলিং বিভাগ দুর্বল হয়ে পড়েছিল। বিশ্বকাপের মাঝপথে অনুশীলনের সময় চোট পেয়ে মাঠের বাইরে চলে যান অধিনায়ক মিচেল মার্শ। তাঁর অনুপস্থিতিতে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ট্রাভিস হেড।
আজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে মার্কাস স্টয়নিসের চোট। বোলিংয়ের সময় আঙুলে গুরুতর আঘাত পাওয়ায় মাঠ ছাড়তে হয় এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডারকে। পরে সাত নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামলেও মাত্র ৬ রানে আউট হয়ে ফিরে যান তিনি। ধারাভাষ্য কক্ষে থাকা সাবেক অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, অস্ট্রেলিয়া আর একটি চোটও সহ্য করার মতো অবস্থায় নেই। স্টয়নিস যদি আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলতে না পারেন, তবে সেটি হবে অজিদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। কারণ, গত কয়েকটি বিশ্বকাপে স্টয়নিসের স্ট্রাইক রেট ছিল ১৬০-এর উপরে, যা মিডল অর্ডারে দলের বড় ভরসা।
সামনে কঠিন পরীক্ষা
অস্ট্রেলিয়ার জন্য আগামী সোমবারের শ্রীলঙ্কা ম্যাচটি অলিখিত নকআউট ম্যাচে পরিণত হয়েছে। এই ম্যাচে হারলে ওমানের বিপক্ষে জয় পেলেও কোনো লাভ হবে না। তবে শ্রীলঙ্কাকে হারাতে পারলে এবং শ্রীলঙ্কা তাদের শেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে গেলে অস্ট্রেলিয়ার পথ সুগম হবে। কিন্তু বর্তমানের ভঙ্গুর দল নিয়ে ছন্দময় লঙ্কানদের হারানো কতটা সম্ভব, তা নিয়ে খোদ অস্ট্রেলীয় গণমাধ্যমেই সংশয় প্রকাশ করা হচ্ছে।
২০২১ সালে শিরোপা জেতার পর ২০২২ এবং ২০২৪ আসরেও সেমিফাইনালে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। এবার প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেওয়ার যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা অজি ক্রিকেটের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হয়ে থাকতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ১৬ ফেব্রুয়ারি পাল্লেকেলেতে লঙ্কানদের বিপক্ষে অজিরা তাদের চ্যাম্পিয়নসুলভ প্রত্যাবর্তন ঘটাতে পারে কি না।
