ভোলায় দুই প্রধান রাজনৈতিক পক্ষ বিএনপি এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি-পার্থ) সমর্থকদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুরে ভোলা শহরের নতুন বাজার এলাকা থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে, যা পুরো শহরজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার বিস্তারিত এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিচে তুলে ধরা হলো:
Table of Contents
১. সংঘর্ষের পরিসংখ্যান একনজরে
| বিষয় | বিবরণ |
| আহতের সংখ্যা | অন্তত ৫০ জন (উভয় পক্ষের)। |
| চিকিৎসা | ভোলা সদর হাসপাতালে অন্তত ২০ জন ভর্তি। |
| আক্রান্ত বিশেষ ব্যক্তি | ১ জন পুলিশ সদস্য ও ২ জন সাংবাদিক। |
| ক্ষয়ক্ষতি | গাড়ি, দোকানপাট এবং রাজনৈতিক পোস্টার-ব্যানার ভাঙচুর। |
| সংঘর্ষের ব্যাপ্তি | নতুন বাজার থেকে প্রেসক্লাব এলাকা পর্যন্ত। |
২. ঘটনার বিবরণ ও রণক্ষেত্রে রূপান্তর
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নতুন বাজারে বিজেপি জেলা কার্যালয়ের সামনে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়।
পাল্টাপাল্টি ধাওয়া: মুহূর্তের মধ্যে এটি ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় রূপ নেয়।
রণক্ষেত্র: নতুন বাজার থেকে প্রেসক্লাব পর্যন্ত দীর্ঘ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন।
ভাঙচুর: সংঘর্ষ চলাকালীন রাস্তার পাশের কয়েকটি দোকান এবং যানবাহন ভাঙচুরের শিকার হয়।
৩. পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
উভয় দলই এই সহিংসতার জন্য একে অপরকে দায়ী করেছে:
বিএনপি’র দাবি: তাদের একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিলে বিজেপি সমর্থকরা অতর্কিতে হামলা চালিয়েছে।
বিজেপি’র দাবি: তাদের পূর্বনির্ধারিত শান্তিপূর্ণ সভায় বিএনপি কর্মীরা অতর্কিতে আক্রমণ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে।
৪. আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদক্ষেপ
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেলে পুলিশ এবং নৌবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রায় এক ঘণ্টা পর সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আসে।
থানা পুলিশের বক্তব্য: ভোলা সদর মডেল থানার ওসি আবু সাহাদাত মো. হাছনাইন পারভেজ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। তবে শহরজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে পুনরায় কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।
৫. বর্তমান অবস্থা
শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দোকানপাট আংশিক বন্ধ রয়েছে এবং মানুষের মধ্যে গ্রেপ্তার আতঙ্ক কাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
