উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে আয়োজিত “ডিফায়েন্স ডেভেলপমেন্ট–২০২৫” সামরিক প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেছেন। এই প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে দেশটি তাদের নতুন প্রজন্মের আধুনিক অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি উন্মোচন করেছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ।
কোরিয়ান ওয়ার্কার্স পার্টির ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে কিম জং উন বলেন, “এই আয়োজন আমাদের পারমাণবিক প্রতিরোধকেন্দ্রিক সামরিক কাঠামোকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করার পথে অগ্রগতির প্রতিচ্ছবি।”
তিনি সতর্ক করে আরও উল্লেখ করেন, “বর্তমান অস্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে আত্মতুষ্ট হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বরং আমাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা জরুরি।”
কিম যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্প্রসারণ নীতিকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে বলেন, “আমেরিকার অব্যাহত সামরিক উপস্থিতি ও সম্প্রসারণ উত্তর কোরিয়া এবং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য একটি প্রকৃত ও গভীর হুমকি।”
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, “যদি যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগকে উপেক্ষা করতে থাকে, তবে উত্তর কোরিয়া ভারসাম্য রক্ষায় আরও শক্তিশালী সামরিক ও প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, কিম জং উনের এই প্রদর্শনী মূলত দেশীয় রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সামরিক ক্ষমতা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়েছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, উন্মোচিত নতুন প্রজন্মের অস্ত্রগুলোর মধ্যে থাকতে পারে—
- উন্নতমানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র,
- আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি,
- এবং বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আপগ্রেড সংস্করণ।
এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে কিম জং উন কেবল দেশীয় সামরিক প্রযুক্তির অগ্রগতি তুলে ধরেননি, বরং বিদেশি শক্তিগুলোর প্রতি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, উত্তর কোরিয়া তার সার্বভৌম নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় আপস করবে না
