জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনে (২৩ সেপ্টেম্বর) গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন ও মানবিক বিপর্যয় নিয়ে বিশ্বনেতারা তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তাঁর ভাষণে বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর সম্মিলিত শাস্তি কখনোই ন্যায্য হতে পারে না। তিনি সতর্ক করে জানান, গাজার মানবিক সংকট ইতোমধ্যে তৃতীয় বছরে প্রবেশ করেছে, যেখানে মৃত্যুর মিছিল ও ধ্বংসযজ্ঞ অন্য যেকোনো সংঘাতকে ছাড়িয়ে গেছে। গুতেরেস আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক আদালতের (আইসিজে) নির্দেশনা উপেক্ষা করে গাজায় দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান গাজায় চলমান সহিংসতাকে সরাসরি ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, বিশ্বের চোখের সামনে ফিলিস্তিনিদের নিশ্চিহ্ন করা হচ্ছে। তিনি ইসরায়েলি সরকারকে দায়ী করে অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান। অধিবেশনে গাজার ভয়াবহ ছবি প্রদর্শন করে এরদোয়ান আরও বলেন, এ ভূমি এখন মানুষের জন্য নয়, এমনকি পশুপাখি ও উদ্ভিদের জন্যও আর বাসযোগ্য নেই।
জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আব্দুল্লাহ বলেন, স্থায়ী শান্তি আসবে কেবল তখনই, যখন ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলিরা পাশাপাশি বসবাস করতে পারবে। তিনি গাজায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান ইসরায়েলি হামলাকে ‘নির্দয়’ আখ্যায়িত করে জেরুজালেমে চলমান লঙ্ঘনের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা পরিস্থিতিকে ‘অন্যায্য গণহত্যা’ বলে বর্ণনা করে জানান, ফিলিস্তিনিরা বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। তাঁর মতে, কেবল একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই ফিলিস্তিনিরা টিকে থাকতে পারবে। ক্ষোভ প্রকাশ করে লুলা বলেন, গাজার মাটিতে হাজার হাজার নারী-শিশু সমাহিত হয়েছে, আর তাদের সঙ্গেই কবর দেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক আইন ও পশ্চিমা নৈতিকতার ভ্রান্ত ধারণাকে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, গাজায় ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং বাস্তুচ্যুতির প্রক্রিয়া চলছেই।
লুলা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে এ অধিবেশনে ফিলিস্তিনের আসন গ্রহণে অনুমতি দেয়নি।
সূত্র: শাফাক নিউজ









