সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরায়েলকে তীব্র সতর্কবার্তা দিয়েছে। দেশটি জানিয়েছে, পশ্চিম তীর দখলের যেকোনো পদক্ষেপ ইসরায়েলকে ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করাবে এবং ২০২০ সালের আব্রাহাম চুক্তির মূল চেতনাকে ধ্বংস করবে।
জাতিসংঘে ইউএই’র জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক লানা নুসাইবেহ বলেন, পশ্চিম তীর দখল ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনাকে শেষ করে দেবে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, “আমরা শুরু থেকেই আব্রাহাম চুক্তিকে ফিলিস্তিনি জনগণ ও তাদের স্বাধীন রাষ্ট্রের ন্যায্য আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থনের একটি উপায় হিসেবে দেখেছি। পশ্চিম তীর দখল আমাদের কাছে রেড লাইন। এটি শুধু চুক্তির চেতনা ভেঙে দেবে না, বরং আঞ্চলিক একীকরণ থামিয়ে দেবে এবং দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের প্রতি আন্তর্জাতিক ঐকমত্যও বিপর্যস্ত করবে।”
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ আমিরাতের এই অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে ইসরায়েলি সরকার কোনো মন্তব্য করেনি।
ইসরায়েলের ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ সম্প্রতি পশ্চিম তীরের চার-পঞ্চমাংশ দখলের প্রস্তাব দেন। জেরুজালেমে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “এখন সময় এসেছে দখলের। দেশ ভাগ করে মাঝখানে একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র গড়ার ধারণা চিরতরে বাদ দিতে হবে।”
তিনি একটি মানচিত্রও দেখান, যেখানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বসতি প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী পশ্চিম তীরের প্রায় ৮২ শতাংশ এলাকায় ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব বিস্তারের প্রস্তাব রয়েছে।
| পরিকল্পিত বিভাজন | এলাকা (%) | মন্তব্য |
| ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব | প্রায় ৮২% | পশ্চিম তীরের অধিকাংশ অঞ্চল |
| ফিলিস্তিনিদের জন্য সীমিত এলাকা | প্রায় ১৮% | ছয়টি শহর: জেনিন, তুলকারেম, নাবলুস, রামাল্লাহ, জেরিহো ও হেবরনের চারপাশের ছোট অংশ |
| বাদ পড়া অঞ্চল | বেথলেহেমসহ বহু শহর, গ্রাম ও এলাকা | দ্বিরাষ্ট্র সমাধানকে অচল করে দেয় |
স্মোট্রিচ দাবি করেন, ফিলিস্তিনিরা আপাতত আগের মতোই জীবনযাপন চালিয়ে যাবে এবং পরে “বিকল্প আঞ্চলিক বেসামরিক প্রশাসনের” মাধ্যমে তা পরিচালিত হতে পারে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই পরিকল্পনাকে স্বাধীন রাষ্ট্রের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি ‘সরাসরি হুমকি’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে প্রায় ১৬০টি বসতি গড়ে তুলেছে, যেখানে প্রায় ৭ লাখ ইহুদি বসবাস করছে। একই এলাকায় বসবাস করছে আনুমানিক ৩৩ লাখ ফিলিস্তিনি। আন্তর্জাতিক আইনে এসব বসতি অবৈধ।
২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে ইউএই, বাহরাইন ও মরক্কো ইসরায়েলের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। সেই সময় শর্ত ছিল— পশ্চিম তীর দখলের পরিকল্পনা স্থগিত রাখতে হবে। যদিও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছিলেন, পরিকল্পনাটি এখনো “টেবিলে” আছে।
নেতানিয়াহু সম্প্রতি বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া মানে হবে “সন্ত্রাসবাদকে পুরস্কৃত করা”। তবে ইউএই আগেই ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অভিযোগ করেছে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েল কার্যত একটি বর্ণবাদী ব্যবস্থা চালু করেছে। তবে ইসরায়েলি সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এর আগে গত মাসে ইসরায়েলি সরকার পশ্চিম তীরে নতুন বসতি স্থাপনের একটি বড় পরিকল্পনা অনুমোদন করে। আন্তর্জাতিক মহলে এর তীব্র সমালোচনা হয়, কারণ ওই পরিকল্পনা কার্যকর হলে পশ্চিম তীর কার্যত পূর্ব জেরুজালেম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দ্বিখণ্ডিত হয়ে যাবে।
