খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ই আগস্ট ২০২৫, ১:৪ পিএম
ভারতের কয়েকটি মারাত্মক প্রজাতির সাপ—বিশেষ করে গোখরা (Monocled Cobra) ও ক্রাইট (Krait)—মৃত্যুর ঘণ্টাখানেক পরও বিষ ছড়াতে সক্ষম। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে এই চমকপ্রদ তথ্য। এর মূল কারণ, এসব সাপের বিশেষ ধরনের বিষ নিঃসরণ ব্যবস্থা।
বুধবার (২০ আগস্ট) রাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
আগে মনে করা হতো, কেবল ঝুনঝুনি সাপ বা থুথু ছোড়া গোখরার মতো কিছু বিশেষ প্রজাতিই মৃত্যুর পরও বিষ ছড়াতে পারে। কিন্তু আসামে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ভারতীয় মনোকল্ড গোখরা ও কালো ক্রাইট মৃত্যুর পরও মারাত্মক ক্ষতি করতে সক্ষম। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে Frontiers in Tropical Diseases জার্নালে।
এই গবেষণা পরিচালনা করেছেন আসামের নামরূপ কলেজের সুশমিতা ঠাকুরের নেতৃত্বে একদল গবেষক। তারা বাস্তবে ঘটিত তিনটি ঘটনা নথিবদ্ধ করেছেন—দুটি গোখরা এবং একটি কালো ক্রাইটের কামড়ের ঘটনা, যা রিপোর্ট করা হয়েছিল আসামের গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে।
ঘটনা–১: মৃত গোখরার বিচ্ছিন্ন মাথার কামড়
৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি বাড়িতে মুরগির ওপর হামলা করা একটি গোখরার মাথা কেটে ফেলেন। পরে মৃত সাপটির দেহ সরাতে গেলে বিচ্ছিন্ন মাথাটি তার বুড়ো আঙুলে কামড় দেয়।
তাকে ইনট্রাভেনাস অ্যান্টিভেনম ও ব্যথানাশক দেওয়া হয়। দীর্ঘ ২০ দিনের চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন।
ঘটনা–২: চাপা পড়ে মৃত ভেবে ফেলা গোখরা
এক কৃষক ধানক্ষেতে কাজ করার সময় ট্র্যাক্টরের নিচে একটি গোখরা চাপা পড়ে। কয়েক ঘণ্টা পর মৃত ভেবে ফেলে রাখা হলেও সেটি কৃষকের পায়ে কামড় দেয়।
গবেষকদের ভাষায়— “চাপা পড়ে মৃত বলে ধরা হলেও সাপটি বিষ ছড়াতে সক্ষম ছিল।”
ঘটনা–৩: মৃত কালো ক্রাইটের বিষাক্ত কামড়
একটি কালো সাপকে হত্যা করে উঠোনে ফেলে রাখা হয়। পরে এক প্রতিবেশী সাপটির মাথা হাতে নিলে সেটি তার আঙুলে কামড় দেয়।
তিনি সম্পূর্ণ অবশ হয়ে পড়েন এবং অচেতন হয়ে যান। পরবর্তীতে টানা ৪৩ ঘণ্টা লাইফ সাপোর্টে রাখার পর ধীরে ধীরে সুস্থ হতে থাকেন এবং ছয় দিন পর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পান।
গবেষকদের মতে—
তাই বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন—মৃত বলে ধারণা করা হলেও বিষধর সাপকে কখনও সরাসরি স্পর্শ করা উচিত নয়।
মন্তব্য